advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মনি পরীক্ষার হলে ঢোকার পরেই শুনি রাফির গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছে

ফেনী প্রতিনিধি
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০৮:৪৭
advertisement

‘৬ এপ্রিল আমাদের পরীক্ষা ছিল। হল পরিদর্শক স্যার সবাইকে কাগজ দেওয়া শেষে জিজ্ঞেস করেন-কে কাগজ পায়নি? কারণ তখনও হল স্যারের হাতে একটি কাগজ বাকি ছিল। তার কিছুক্ষণ পর কামরুন নাহার মনি পরীক্ষার হলে এসে ঢোকে। প্রায় ১৫ মিনিট পর। এর কিছুক্ষণ পরই শুনি মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। তবে ওই দিন শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়েছে মনি।’

গতকাল রবিবার আদালতে জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষী তাহমিনা আক্তার ও বিবি হাজেরা।

গতকাল ১৭তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। এ দিন তাহমিনা ও হাজেরা ছাড়াও সাক্ষী দেন আবু বকর সিদ্দিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর হোসেন।

আবু বকর সিদ্দিক তার জবানবন্দিতে বলেন, যখন নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নামাচ্ছিল, তখন তার গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। আমি আমার পাঞ্জাবি খুলে নুসরাতের গায়ে পরিয়ে দিই। তখন নুসরাতকে পাপোস ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন মাদ্রাসার পিয়ন ও পুলিশ কনস্টেবল। এ মামলার ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

গত ২৭ জুন থেকে এ মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ সোমবার পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল, জহির রায়হান, মো. আজহারুল ইসলাম, মো. ফারুক ও এএসই আরিফুর রহমান সাক্ষ্য দেবেন।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশ প্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরী মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল করিম, সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী, সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী ও মাদ্রাসাছাত্রী বিবি জাহেদা বেগম তামান্না, মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবী রাণী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার ও কায়সার মাহমুদ, মাদ্রাসার ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার হামদুনা, নাসরিন সুলতানা ও হল পরিদর্শক কবির আহম্মদ, তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর সিদ্দিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

advertisement