advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাত কলেজবিরোধী আন্দোলনে অচল ঢাবি

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় (ঢাবি)। গতকাল রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিকে অধিভুক্তি বাতিলের ক্ষমতা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের নেই বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবন, প্রক্টর অফিস, কলা ভবন, ব্যবসাশিক্ষা অনুষদসহ অন্যান্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। পরে এসব ভবনের সামনে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। আরেকটি অংশ একই দাবিতে পুরো ক্যাম্পাসে

বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ক্যাম্পাসের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ আন্দোলনের ফলে ক্লাস করতে এসে ফিরে যান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মূল গেটে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ার কারণে তা বিঘœ ঘটে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যের ফরহাদ বলেন, ‘যেহেতু আমাদের আন্দোলন চলছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। যাদের ভাইভা আছে পরে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট স্যার আমাদের এ বিষয়ে জানিয়েছেন।’ এ ব্যাপারে আইএমএলের পরিচালক শিশির ভট্টাচার্য বলেন, ‘যারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করছেন তাদের জানা উচিতÑ এখানে ক্লাস হচ্ছে না, ভর্তি কার্যক্রম ও ভাইভা হচ্ছে। তবে যারা দিতে পারেননি পরে তাদের ভাইভা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

এদিকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘অধিভুক্তি বাতিলের ক্ষমতা আমাদের নেই। এটা সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা যেটা পারি সেটা হচ্ছে, এটাকে নতুন করে সাজাতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। যাতে করে আমাদের শিক্ষার্থীদের কোনো স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন ও সহানুভূতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন আমাদের অনেক কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে আমরা ডাকসু নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং শিক্ষার্থীরা জানেন না এমন কিছু তথ্য দেবেন। আশা করি, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে এবং বাকি সিদ্ধান্ত উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান চীন থেকে ফিরলেই নেওয়া হবে।’

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালনা করা হবে বলে জানান সাত কলেজের সমন্বয়ক অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে ওই সাত কলেজের শিক্ষা পরিচালনার কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। ঢাবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষায়ও কোনো ব্যাঘাত হবে না।’

advertisement