advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ৩ জন রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০১৯ ১৮:৫২ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ১৮:৫৩
advertisement

রাজধানীর বাড্ডার কাঁচাবাজারের সামনে বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলের গেটে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন জনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধিমান চন্দ্র মণ্ডল এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি জাফর হোসেন আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিমান্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মো. শাহীন, মো. বাচ্চু মিয়া ও মো. বাপ্পি।

রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে বাড্ডা থানার জেনারেল রেকর্ডিং অফিসার (জিআরও) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত আলী বলেন, ‘একজন মাকে ছেলেধরা সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে আসামিরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মর্মে দেখা গেছে। এ আসামিদের সঙ্গে আর কে কে ছিল তা জানার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রার্থীত মতে ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’

অন্যদিকে আসামি মো. শাহীন ও মো. বাচ্চু মিয়ার পক্ষে দুই জন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। তারা তাদের আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে শুনানিতে আদালতকে বলেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর আসামি বাপ্পির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

গত ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডার কাঁচাবাজারের সামনে বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে সন্তানকে ভর্তির খোঁজ নিতে গিয়ে তাসলিমা বেগম রেনু ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।

নিহত রেনুর ১১ বছরের ছেলে তাহসিন আল মাহির ও তাসনিম তুবা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ঘটনার দিন তুবাকে ভর্তির খোঁজখবর নিতেই বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলেন রেনু।

নিহত রেনুর ভাগ্নে নাসির উদ্দিন টিটু জানান, রেনু লেখাপড়া শেষে আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেন। স্কুলেও করেছেন শিক্ষকতা। প্রায় দুই বছর আগে স্বামী তসলিম হোসাইনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেটের একটি ভাড়া বাসায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। ছেলেকে ছয় মাস আগে তার বাবা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা বড়ভাই মো. আজগার আলীর কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন রেনু।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ছেলেধরা বলে বাইরে থেকে হট্টগোল শুরু হলে তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যেই স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উচ্ছৃঙ্খল মানুষে ভরে যায় জায়গাটি। এরপর হাতেগোনা কয়েকজন যুবক মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে পেটায় রেনুকে। কেউ কেউ এলোপাতাড়ি লাথিও মারছিল। শত শত মানুষ দর্শকের ভূমিকায় তা দেখছিল, কেউ আবার সেই মারধর মুঠোফোনে ভিডিও করছিল।

advertisement