advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনির মামলায় আসামি সাড়ে ৫শ’, ক্ষুব্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
২২ জুলাই ২০১৯ ১৯:৩১ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ১৯:৫৭
advertisement

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে সিরাজ (৩৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী নিহত এবং একই দিনে আরেকটি ঘটনায় শারমিন (২৫) নামে এক নারী আহত হন। গত শনিবারের এ ঘটনা দুটির প্রথমটিতে পুলিশ বাদী হয়ে এবং পরেরটিতে শারমিনের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এ দুটি মামলায় এজাহার নামীয় ৯৫ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাড়ে পাঁচশ জনকে আসামি করা হয়েছে। যার বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ী।

সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, এই মামলা দুটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। মূলত হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল-আমিন নগরে ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু এ ঘটনায় নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সব নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

নেতাকর্মীদের দাবি, যাদের নামে মামলা করা হয়েছে তাদের অনেকেই ঘটনাটি জানতেনই না।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটছে সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। কিন্তু পুলিশ কীভাবে ১০টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিলো? এটি একটি ভুতুড়ে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এই মামলার কারণে আজ আমাদের নেতাকর্মীরা ঘড়ছাড়া।’ এ মামলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। অতিদ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করে যারা নিরপরাধ তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’

এদিকে এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া পুলিশের দায়ের করার মামলা সম্পর্কে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এর চেয়ে বড় হলো, এটা আমাদের নেতাকর্মীদের নামে পুলিশের দায়ের করা ভুতুড়ে মামলা।’ এই মামলায় যেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করা হয়, সে দাবিও জানান তিনি।

নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, ‘বর্তমান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার এখানে যোগদান করার পর তার কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিমধ্যে রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকবার। আমার মনে হচ্ছে, পুলিশ সুপারের (এসপি) সুনাম নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জড়ানো হয়েছে।’ এ ঘটনায় যারা জড়িত নন তাদেরকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

এদিকে শারমিনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শারমিনের মা তাসলিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মামলায় কয়জনকে আসামি করা হয়েছে তা আমি জানি না। আসামিদের নাম সব স্যারেরা জানেন। আমি কাউকে চিনি না। স্যারেরা বলছে আমাকে কাগজে স্বাক্ষর করতে, আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি।’

অপর মামলার বাদী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না। আপনারা ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়া বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিএসবি, ডিবি এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নাম পেয়ে তাদেরকে আসামি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

advertisement