advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত সঠিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯ ০০:২১
advertisement

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাত কলেজ অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এতগুলো কলেজের শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় যে ক্যাপাসিটি দরকার তা নেই বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

ড. একে আজাদ চৌধুরী। গতকাল আমাদের সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আজাদ বলেন, একসঙ্গে এত প্রতিষ্ঠান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও পারছে না কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে। এ জন্য তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোয় পরিচালনা প্রশাসনিক বিষয়টি দেখভাল করে মাধ্যমিক ও উ”চ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগ্রহণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ ছেলেমেয়ে পড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয়। এতে বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে মানোন্নয়ন করা যায়নি। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেই প্রধানমন্ত্রী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজগুলোর অধিভুক্তির কথা বলেন। এটি তার সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব নয় সারাদেশের বিশালসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন যেন দেশের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তাদের এলাকার কলেজগুলো তারাই দেখবে। এতে লেখাপড়ার মান বাড়বে। আবার ছাত্রছাত্রীদের গর্বের একটি ব্যাপার থাকবে। আমি ওমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

ইউজিসির সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মনে করছে, তারা একটি কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীরা একটি অধিভুক্তির মধ্য দিয়ে তাদের মতোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নিচ্ছে। তা হলে চাকরির বাজারে উভয়ের মধ্যে তফাৎ কী? কিন্তু এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের সার্টিফিকেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই লেখা থাকবে। আর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে নিজ নিজ কলেজের নামই থাকবে। এতে ঢাবির শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

এই শিক্ষাবিদের পরামর্শ, সাত কলেজ পরিচালনার জন্য পৃথক জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দিয়ে এগুলো দেখভাল করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যেন কোনো ধরনের পড়াশোনায় বিঘœ না ঘটে। সরকার আরেকটি পদ্ধতিতেও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে হলে আঞ্চলিক কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় করে তার অধীনে সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলো পরিচালনা করা। তবে সব কিছু রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য সময় প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে একক কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সমাধান হবে না। সরকারের নির্দেশনায় সব পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে।

advertisement