advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লুকানো কৃপ্রবৃত্তির বহির্প্রকাশ ঘটছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯ ০২:২৮
advertisement

সমাজের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে প্রকৃত শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হলো বই মুখস্থ করো, কোচিং করো। প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এখন আর শিক্ষা দেয় না। বই মুখস্থ করায়। গতকাল
আমাদের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের চরিত্রের গভীরে লুকানো কুপ্রবৃত্তির বহির্প্রকাশ ঘটছে। এটি বোঝার জন্য গবেষণার প্রয়োজন নেই। অসততা আমাদের ভিতরে। এর প্রধান কারণ হলো শিক্ষার অভাব। আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছি, কিন্তু নৈতিকতা শিখছি না। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা মানুষের মনের রিপুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয় না। এই যে, বিভিন্ন গুজব সৃষ্টি হচ্ছে। গুজব কেন হয়? বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব। বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ নেই। এমনকি বিজ্ঞান চর্চার জন্য বাজেটও নেই। এত বড় বড় মেগা প্রকল্প করে কী লাভ হবে, যদি না একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি করা না যায়।
সৈয়দ মনজুরুল আরও বলেন, আমরা ধর্ম নিচ্ছি কিন্তু নৈতিকতা নিচ্ছি না। ইসলাম ধর্মে কত সুন্দর নৈতিকতার, মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সমাজের অস্থিরতার আরেকটি কারণ হলো প্রশাসন ও পুলিশকে ক্ষমতাসীনরা রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রশাসন ও পুলিশ এখন জনগণের সেবায় ব্যবহার হচ্ছে না। রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা হচ্ছে। মাদক বর্তমান প্রজন্মকে শেষ করে দিচ্ছে। স্মার্টফোন বর্তমান প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ফেসবুকে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করছি। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হচ্ছি। পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে? তারা কাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে খুঁজে বের করতে হবে। ঢাকা শহরসহ সারাদেশে খেলার মাঠের অভাব। খেলাধুলার মাধ্যমে বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়; মন বিকশিত হয়। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। ফলে বর্তমান প্রজন্ম গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে।
এ থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমত রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা থাকতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। পাবলিক পরীক্ষার সংস্কার আনতে হবে। শিক্ষায় বিজ্ঞানমনস্কতা আনতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও দিতে হবে। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ সৃষ্টি করতে হবে।

advertisement