advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে ৩ ল্যাবের রিপোর্ট

২৪ জুলাই ২০১৯ ০২:১৬
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯ ০২:১৬
advertisement

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআইয়ের নিবন্ধিত ১৪টি কোম্পানির বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধের নমুনা তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিএসটিআইর আইনজীবী রিপোর্ট তিনটি আদালতে দাখিল করেন।
ল্যাব তিনটি হচ্ছেÑ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআরবির ল্যাবরেটরি এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরি। তবে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। আজ প্রতিবেদনগুলোর ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী অনিক আর. হক। আদালতে বিএসটিআইর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সরকার এম আর. হাসান।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চ দীর্ঘ সময় প্রতিবেদনগুলো দেখে আইনজীবীদের এর বিষয়বস্তু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলেন। প্রতিবেদনগুলো আজ বুধবার এফিডেভিট আকারে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। শুনানিকালে দুধ পরীক্ষাসংক্রান্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনও এ বেঞ্চ তলব করেন।
গত ১৪ জুলাই বিএসটিআইর অনুমোদনপ্রাপ্ত দুধ কোম্পানিগুলোর পাস্তুরিত দুধ চারটি সংস্থার ল্যাবে পরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যাকটেরিয়া, ফরমালিনের পাশাপাশি অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কিনা, তা নিরূপণ করতে বলা হয়। সেই নির্দেশে গতকাল তিনটি ল্যাব থেকে পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ নিয়ে আইসিডিডিআরবির গবেষণা নিয়ে গত বছরের প্রথম দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধই ভেজাল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। এতে গত বছরের ২১ মে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি করে পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৫ জুন বিএসটিআইর আইনজীবী আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, ১৪টি কোম্পানির পাস্তরিত দুধে আশঙ্কাজনক বা ক্ষতিকর কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক সংবাদ সম্মেলনে তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তাদের গবেষণায় পাস্তুরিত দুধের নমুনায় ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক, ফরমালিন ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর গত ১৪ জুলাই শুনানিকালে বিএসটিআই স্বীকার করে, অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষার সক্ষমতা তাদের নেই। পরে হাইকোর্ট চারটি ল্যাব থেকে দুধ পরীক্ষার ওই নির্দেশ দেন।

advertisement