advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

মাগুরা প্রতিনিধি
২৪ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯ ০২:৪৫
advertisement

মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়ার উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তাকে ঢাকায় এনে যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারটির সার্বিক সহযোগিতা দিতে গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরই তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার জন্মদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক আলী অকবর। সঙ্গে নিয়ে যান কেক, নতুন পোশাক, খেলনা ও বিভিন্ন খাবার। এসব নিয়ে সুরাইয়ার জন্মদিন পালন করেন।

২০১৫ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শহরতলির দোয়াপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাড়ে সাত মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ নাজমা বেগম। এ সময় তার গর্ভে থাকা শিশুটিও গুলিবিদ্ধ হয়। ওই রাতে মাগুরা সদর হাসাপতালের চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করে মা ও গর্ভে থাকা শিশুটির জীবন বাঁচান। পরে গুলিবিদ্ধ নবজাতক সুরাইয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ঢাকায়। দীর্ঘ দেড় মাস ঢাকায় চিকিৎসা চলাবস্থায় তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ দেশের দায়িত্বশীল অনেক কর্তাব্যক্তি তার চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ তার পরিবারের সব দায়ভার গ্রহণের ঘোষণা দেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর আর কেউ সুরাইয়ার খোঁজ রাখেননি। অর্থাভাবে চিকিৎসা না হওয়ায় দুটি পা অচল ও একটি চোখ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিশুটির। চার পূর্ণ করে পাঁচ বছরে পা রাখা সুরাইয়া চিকিৎসার অভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছেÑ এমন খবর মিডিয়ায় প্রচারের পরই তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জন্মদিন উদযাপন ও ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার আশ্বাস পেয়ে সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমার মেয়ে আজ পৃথিবীর আলো দেখছে। সবার আদরে ভালোভাবে বেড়ে উঠলেও চার বছরের সুরাইয়া দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। ইতোমধ্যে ডান চোখটি গুলির আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে, পাশাপাশি ডান হাত কাজ করে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে সে অনেকটা স্বাভাবিক হতে পারত। কিন্তু আর্থিক অচ্ছলতার কারণে তা পারছি না।’ মেয়ের জন্মদিনে নাজমা বেগমের চাওয়াÑ পৃথিবীতে যেন আর এ রকম ঘটনা না ঘটে।

advertisement