advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কৃষি ঋণের উচ্চসুদে বিপাকে কৃষক : কৃষি ব্যাংকের এমডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০১৯ ২১:৫১ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৯ ২১:৫১
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া
advertisement

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বা পল্লী অঞ্চলে বিতরণকৃত কৃষি ঋণের ৬১ শতাংশ যায়- বেসরকারি সংস্থা, এনজিও এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন বা ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ক্ষেত্রবিশেষে এসব প্রতিষ্ঠানে ঋণের সুদহার ২৫ থেকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত কাটা হয়। এতে বিপাকে পড়ছেন গ্রামের সাধারণ কৃষক। এই অবস্থা চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া।

আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘ইম্প্যাক্ট অফ ব্যাংক বেজড রুরাল অ্যান্ড আরবান ফাইন্যান্সিং অন ইকনোমিক গ্রোথ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশে গ্রামীণ পর্যায়ে মাত্র ৩৯ শতাংশ ঋণ সরাসরি ব্যাংক বিতরণ করে থাকে। বাকি ৬১ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে বিভিন্ন এনজিও এবং ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণকে স্বল্প সুদে সরাসরি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। তা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কখনোই সম্ভব নয়।’

প্রধানিয়া বলেন, ‘২০ বছর আগে যেসব গ্রাহক ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিতেন এই মুহূর্তে তারা ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিচ্ছেন। ঋণ নেওয়ার পরিমাণ তাদের বেড়েছে কিন্তু নতুন গ্রাহক সৃষ্টি হয়নি। টেকসই উন্নয়নে পৌঁছাতে গেলে সকল পরিবারকেই অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে খাতভিত্তিক ঋণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক কোনো গবেষণা নেই। আমরা জানি না কৃষি খাতে কী পরিমাণ ঋণ বিতরণ প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী সকল ব্যাংক মোট বিতরণের দুই শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করে আসছে। ’ এই বিষয়টিও বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘আমাদের দেশের এখন অন্যতম বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। অন্যান্য সেক্টরের খেলাপি ঋণের চেয়ে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ খুবই কম। গড়ে ১০ শতাংশেরও নিচে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যাংক খাত রক্ষায় এই ঋণের বিতরণ আরও বৃদ্ধি করা যায় কি-না এ বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যেকোনো ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পরিমাণগত দিক বিবেচনার চেয়ে গুণগতমান বিবেচনা করা অধিক জরুরি। ’পুরাতন গ্রাহককে বারবার ঋণ না দিয়ে দেশের ব্যাংকগুলোর প্রতি নতুন গ্রাহক তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘যে সব ব্যাংকের শাখা গ্রামাঞ্চলে নেই তারা অনেক সময় এনজিওর মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করত। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান এজেন্ট ব্যাংকিং এবং ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের নীতিগত সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুত। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এরই মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে।’

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহেল মোস্তফা। এতে বলা হয়, ব্যাংকের একটি বড় অংশ অর্থায়ন হয় গতানুগতিক পণ্যে। এর পরিবর্তে কৃষিভিত্তিক নতুন পণ্যে অর্থায়ন করলে ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা কম। এর মধ্যে রয়েছে কুমির, কাঁকড়া চাষ, কচ্ছপ, কেঁচো, উটপাখি, সাপের বিষ এবং ব্যাঙ-এর পা। যা এরই মধ্যে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং খামারিরা লাভবান হয়েছেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন- বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন।

advertisement