advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টানা ‘রাত জাগা’য় বাড়ছে ক্যানসারের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১ আগস্ট ২০১৯ ১১:১৮ | আপডেট: ১ আগস্ট ২০১৯ ১১:২১
advertisement

মানুষের শারীরিক রোগসমূহের মধ্যে ক্যানসার একটি ভয়ংকর রোগ। বাস্তবিক অর্থে এখন পর্যন্ত এটির চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে ভালো কোনো চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হয় না। তবে এই ক্যানসারের জন্য অনেকেই সবচেয়ে পুরোনো অভ্যাস-সেই তামাক সেবনকে দায়ী করে থাকেন। এ ছাড়া আর্সেনিকসহ অসংখ্য রাসায়নিকও এর জন্য দায়ী।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার এই তালিকায় আরেকটি বিষয় যোগ করেছেন, আর তা হচ্ছে নাইট ডিউটি। টানা নাইট ডিউটি করাকে কার্সিনোজেনিক আখ্যা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিজ্ঞানীদের।

ইন্ডিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হু’র অধীনে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি) সংস্থার গ্রুপ-২ মনে করছে, টানা রাত জাগায় শরীরের জৈব ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকের যে ভয়াবহ বদল ঘটে, তার জেরেই তৈরি হয় স্তন, প্রস্টেট, পায়ু ও অন্ত্রসহ অনেক রকম ক্যানসার।

গত জুনে ফ্রান্সের লিওতে আয়োজিত হু’র একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৬টি দেশের ২৭ জন বিজ্ঞানী, যারা প্রত্যেকেই আইএআরসি’র সদস্য। সারা দুনিয়ায় গত প্রায় দেড় দশকে হওয়া অনেকগুলো গবেষণার সংকলন করে তারা এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছেন যে, টানা নাইট শিফটে কাজ করার জেরে শরীরে জন্ম নিতে পারে কর্কট রোগ।

হু’র বিজ্ঞানীদের এই মূল্যায়ন সম্প্রতি ল্যান্সেট-অঙ্কোলজির বিজ্ঞান পত্রিকার জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার পরই আলোড়ন পড়ে সারা বিশ্বের চিকিৎসক মহলে। বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অঙ্কোলজির মতো ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের সংগঠনও।  

চিকিৎসকরা মনে করছেন, হাসপাতাল, হোটেল, সংবাদমাধ্যম, নিরাপত্তা অ্যাজেন্সি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারখানার পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্রের এমন অনেক পেশা আছে, যার সঙ্গে নাইট ডিউটির নিবিড় যোগাযোগ।

ভারতীয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘প্রকৃতি আমাদের জন্য রাতকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ঘুমের জন্য। আমরা যদি কেউ টানা সেই নিয়মটা ভেঙে চলি, তা হলে আমাদের শরীরের জৈব ঘড়ি তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। তখন শরীরের ওপর চাপ বাড়ে। সেটা সামলাতে, সারা শরীরেই অসংখ্য ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরি হয়। বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসারের টিউমারের জন্ম দিতে এই সব ফ্রি র‌্যাডিক্যালস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ’

তবে চিকিৎসকরা মনে করেন, সপ্তাহে একদিন বা মাসে পাঁচ-ছয়দিন নাইট ডিউটিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটা তখনই, যখন দিনের পর দিন কেউ রাতেই কাজ করে চলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাইট শিফট বলতে শুধু নাইট ডিউটি করাকেই নয়, ভূমধ্যসাগর পেরোনো রাতভরের বিমানযাত্রাকেও এর আওতায় ফেলা হচ্ছে। সারা দুনিয়ায় প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে একজন নাইটি ডিউটি করেন। তাই আশঙ্কাও অনেক বেশি।

advertisement