advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রকৃত বন্ধু কে, চিনবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০১৯ ১০:৫০ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০১৯ ১০:৫১
advertisement
advertisement

বন্ধুত্ব মজার সম্পর্ক। অন্য সব সম্পর্কের মতো বন্ধুত্বে নেই কোনো বস্তুগত দায়বদ্ধতা। সব নিয়ম অনিয়ম, বিশ্বাস, নির্ভরতা আর বাধভাঙ্গা সম্পর্কের মিলনস্থল হচ্ছে বন্ধু। যে কথা কাউকে বলা যায় না, সে কথাই অকপটে খুলে বলা যায় বন্ধুর সামনে। বন্ধু কখনো শিক্ষক, কখনো সকল দুষ্টুমির একমাত্র সঙ্গী। মনের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস, আবেগ আর ছেলেমানুষির অপর নামই তো বন্ধুত্ব। চলার পথে যে সম্পর্কে থাকে না জাতিভেদ, যে সম্পর্ক থাকে সব বাঁধনের ঊর্ধ্বে।

অর্থ দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব কেনা যায় না, কিংবা গায়ের জোরেও এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। হয়তো প্রতিদিন আপনার অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বও গড়ে উঠবে কিন্তু সেই মানুষটি কি আসলেই আপনার প্রকৃত বন্ধু? ভালো সম্পর্ক মানেই প্রকৃত বন্ধু নয়। সে জন্য থাকতে হয় কিছু গুণাগুণ।

আসুন জেনে নিই একজন ভালো বন্ধুর কিছু গুণাবলি -

দুর্বলতা নিয়ে ঠাট্টা

আপনার বন্ধু কি আপনার সঙ্গে সবসময় আপনার দুর্বল জায়গাটি নিয়ে কথা বলছে? হয়তো যে বিষয়টি আপনি আর মনে করতে চাচ্ছেন না, কিন্তু আপনার বন্ধু আপনাকে প্রতি মূহুর্তে আপনার দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল ‍দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে? আপনার দুর্বলতা নিয়ে ঠাট্টা করছে। তাহলে অবশ্যই এই ধরনের বন্ধুত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কারণ আপনার প্রকৃত বন্ধু কখনোই আপনার দুর্বলতা নিয়ে মজা করবে না।

দুঃসময়ে পাশে থাকা

একজন প্রকৃত বন্ধু চেনা যায় বিপদের সময়। বন্ধুর বিপদে চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়। প্রয়োজনে সময়ে- অসময়ে বন্ধুর বিপদে তাকে সাহায্য করা। যে বন্ধু কোনো স্বার্থ ছাড়াই ‍বিপদের দিনে আপনাকে সাহস জোগায় সেই মানুষটি অবশ্যই আপনার প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে একজন।

বন্ধুত্বে বিশ্বস্ত থাকা

কথায় আছে, বিশ্বাস ভালোবাসার শক্তি। আর বন্ধুত্বে বিশ্বাস রক্ষা করা খুবই জরুরি। তৃতীয় কোনো পক্ষের কথার সূত্র ধরে বন্ধুত্বের বিশ্বাসভঙ্গ কখনোই কাম্য নয়। যে বন্ধু আপনার কোনো ব্যক্তিগত বিষয় অন্য মানুষকে বলে বেড়াবে সে আর যাই হোক আপনার প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।

বন্ধুত্বের ইচ্ছাকে সম্মান জানানো

বন্ধুর ইচ্ছাকে সবসময় সম্মান জানানো উচিত। যদি তা পছন্দ না হয়, তবে সরাসরি বলুন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা অবশ্যই জরুরি। সমালোচনা করুন, তবে কটুক্তি নয়। তবে সমালোচনার ভাষা ব্যবহারে সচেতন হওয়ায় খুবই প্রয়োজন। আপনার কোনো ভুল হলে প্রকৃত  বন্ধু আপনাকে  ছুঁড়ে ফেলে দেবে না, আপনাকে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করবে। বন্ধুর প্রতি বিনয়ী হওয়াই বন্ধুত্বের প্রধান হাতিয়ার।

বন্ধুত্ব চিরকালের

প্রিয় বন্ধু চিরদিনের। হতে পারে দুজনে আলাদা কলেজ গেছেন, আলাদা শহরে জীবন-যাপন করেন, প্রাত্যহিক জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কিন্তু এত কিছুর পরও ভালো বন্ধুত্ব কখনোই হারিয়ে যায় না। দুজন ভালো বন্ধু কখনোই একে অপরকে ভুলে যাবে না, বরং আরও বেশি করে একে অপরকে মনে করবে এবং সময় পেলেই একে অপরের সঙ্গে দেখা করে খুনসুটি করবে, এমনই হতে হবে বন্ধুত্ব। রাগ অভিমান করে পরস্পরকে ভুলে গেলে সেটা কখনোই প্রকৃত বন্ধুত্ব নয়।

স্বতঃস্ফুর্ততা

দুজন মানুষকে পাশাপাশি রেখে বন্ধু হতে বললে বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব সাবলীল এবং স্বতঃস্ফুর্ত। ফলে প্রিয় বন্ধুরা কখনই একসঙ্গে চুপচাপ থাকে না। তারা প্রাণবন্ত এবং উচ্ছ্বল থাকে।

বন্ধুর প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া

ভালো বন্ধু সবসময় বন্ধুর ভালো চায়। নিজের ভালো হোক সকলেই চায়, তবে তার জন্য বন্ধুর ক্ষতি হোক এমন ভাবা কিন্তু প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় নয়। প্রকৃত বন্ধু চাইবেন তার নিজের উন্নতির পাশাপাশি আপনারও উন্নতি হোক।

বন্ধুত্বে সৎ থাকা

বন্ধুত্বে অবশ্যই সৎ থাকতে হবে। মনের মতো বন্ধু পেতে সততার কোনো বিকল্প নেই। যে বন্ধু নিজেকে বড় করতে সবসময় মিথ্যা বলে সে কখনোই প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারে না।

ভালো শ্রোতা হওয়া

বন্ধুত্বে ভালো শ্রোতা হওয়াও খুব জরুরি। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডায় কেবল নিজের কথাগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বন্ধুকেও কথা বলতে দেওয়া এবং আলোচনায় উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে দুজনের ভালো লাগা, মন্দ লাগা পরস্পরের বুঝে নিতে সহজ হয়। বন্ধুর সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া, বন্ধুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয় নিয়ে উপহাস না করাই প্রকৃত বন্ধুর দায়িত্ব। বন্ধু মানেই কেবল আমার সবটুকু কথা তাকে বলে ফেলা নয়, বরং তার কথাগুলোকেও আপন করে নেওয়া।

বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখতে শেখা

বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন কাজ। তবে একজন প্রকৃত বন্ধু সব সময়ই সম্পর্ককে প্রাধান্য দেন।যে বন্ধু ভুল বোঝাবুঝি, রাগ, অনুরাগ, ব্যস্ততা, এড়িয়ে চলা, দূরে রাখে সেই আপনার প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে একজন।

advertisement