advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডেঙ্গু প্রকৃতির প্রতিশোধ

ড. এম এ মাননান
৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৫ আগস্ট ২০১৯ ০৮:৫২
advertisement

দুর্যোগ নেমে এসেছে সারা পৃথিবীতে। এটি শুধু প্রাকৃতিক নয়। এর পেছনে হাত রয়েছে মানুষের। মানুষ নির্বিচারে সাবাড় করে দিচ্ছে গাছপালা, বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর, নদীনালা, খাল-বিল, জলাশয় আর কৃষিজমি এবং একই সঙ্গে নাকাল করে দিচ্ছে বর্জ্যদূষণে। করছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ। প্রকৃতির বিরুদ্ধে গেলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবেই। আমরা তো তা দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনেই। এ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর নাচন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১২৮ দেশের তিনশ নব্বই কোটি মানুষ ডেঙ্গুঝুঁকিতে। বাংলাদেশে মারছে ছোবল দেশজুড়ে। তীব্র হয়েছে বিগত কয়েকদিনে। মানুষের কারণেই প্রকৃতি বিরূপ হচ্ছে আর এডিস মশাও লাফিয়ে লাফিয়ে তার বংশবৃদ্ধি করছে। এ মশাটিকে সামান্য একটি কীট ভেবে হেলাফেলা করা যাবে না কোনোমতেই। এটি একটি রক্তচোষা ভয়ঙ্কর পতঙ্গ।

এ পতঙ্গটির অগ্রগমন প্রতিহত করার জন্য দেখা যাচ্ছে না কোথাও সমন্বিত পরিকল্পনা। কোথাও কোথাও বিদঘুটে আওয়াজের ফগার মেশিনের চেহারা ছাড়া দেখা যাচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এডিসের বিরুদ্ধে, তার বংশবিস্তার রোধে। সাবধান হওয়ার সময় চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে আরেক উপদ্রব যা ডেঙ্গু নয় কিন্তু ডেঙ্গুজাতীয়, নাম ট্রিপল-ই (ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস)। এটিও মশাবাহিত, জন্মায় বাড়ির আশপাশে বদ্ধ জলাশয়ে। দেখা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার চেয়ে অনেক গুণ বেশি বিপজ্জনক, মানুষের মস্তিষ্ক সংক্রমিত হয়ে ফুলে যায়। আক্রান্ত মানুষের মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক, বেঁচে থাকলেও সারা জীবন বেঁচে থাকেন স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে। এ অঞ্চলে আসতে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না। ভ্রমণকারীদের মাধ্যমেই এসে যাবে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে।

আমরা আশায় আশায় সব সময় বুক বেঁধে থাকি। খুবই সাম্প্রতিক আশা হলো কীভাবে এডিসের তৈরি ডেঙ্গু থেকে বাঁচা যায়। আশাজাগানিয়া একটি খবর দিয়েছেন বাংলাদেশ পারমাণবিক কমিশনের কয়েকজন নবীন-প্রবীণ গবেষক। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, পুরুষ মশাকে বন্ধ্যা করে দিয়ে মশা নিধন পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে সহজেই এডিস মশার আক্রমণাত্মক বিস্তার রোধ করা সম্ভব। কমিশনের জীবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা সমাপ্ত করে বলেছেন, পুরুষ এডিস মশাকে বিশেষ পদ্ধতিতে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্যা করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিলে এ মশার সঙ্গে মিলনের ফলে স্ত্রী মশা ডিম পাড়লেও তা নিষিক্ত হয় না। পরিবেশবান্ধব অথচ কার্যকর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে যাবে, কারণ পুরুষ এডিস মশা মানুষকে কামড়ায় না এবং এরা ডেঙ্গুর জীবাণুও বহন করে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করব, অবিলম্বে পরমাণু কমিশনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদ্ধতিটি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। আমাদের বিলম্ব করার সময় নেই। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির একজন গবেষকও বেশ কয়েক বছর আগে গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন : শহরের সব ড্রেনে শত শত রুই-কাতল মাছের পোনা ছেড়ে দিলে এরা খেয়ে সাবাড় করবে মশার লার্ভা। শুনেছি, কোনো একটি বহুজাতিক কোম্পানি এর বিরোধিতা করায় পরামর্শটি মাঠে মারা যায়। মশার ওষুধের ব্যবসায়ীরা এরূপ পরামর্শকে হাস্যকর বলে হয়তো গুজব ছড়াবেন তাদের ব্যবসার অকল্যাণ হওয়ার ভয়ে। বাংলাদেশেরই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষকও একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগগুলো প্রতিরোধের লক্ষ্যে জিএমএম (জেনেটিক্যালি মোডিফাইড মসকুইটো) আর উলভেচিয়া অ্যাসোসিয়েটেড মশা ব্যবহার করা হলে মশার সংক্রমণ কমানো যাবে। তিনি এও পরামর্শ দিয়েছেন যে, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো মশার বংশ বৃদ্ধির স্থান অপসারণ করা, সে লক্ষ্যে জনগণকে মিডিয়া, টেলিভিশন এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির স্থানগুলো চিনিয়ে দিয়ে মশা নিধনের পন্থাগুলো বুঝিয়ে দেওয়া এবং ফাইরিথ্রাম জাতীয় ওষুধ অকার্যকর হলে ম্যালাথিয়ন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা।

তবে তাদের গবেষণাকে কর্তাব্যক্তিরা কতটুকু গুরুত্ব দেবেন তা বোঝা মুশকিল। আবার বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলো বাগড়া দেবে কিনা সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা দরকার। সারাবিশ্বে মশা তো এখন কোটি কোটি ডলারের ব্যবসায়ের ‘কাঁচামাল’। বাংলাদেশের কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও কীটতত্ত্বে¡র অধ্যাপক-গবেষকরা গবেষণা করে তাদের সায়েন্টিফিক প্রবন্ধের মাধ্যমে মশা নির্মূলের পথ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এখনো সময় বয়ে যায়নি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের নিয়ে একটি সেমিনারের ব্যবস্থা করে দ্রুত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এডিসসহ সব ধরনের মশা নিধনসহ প্রতিরোধের পন্থা বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সিটি করপোরেশনগুলো আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ত্বরিত উদ্যোগ নিতে পারে। অবিলম্বে নেওয়া উচিত দেশবাসীর স্বার্থে; জনমানুষের স্বার্থ দেখার জন্যই তো তাদের নিয়োজন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাস্তবমুখী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সক্রিয় উদ্যোগী (প্রো-অ্যাক্টিভ) হতেই হবে। শুধু মুখের বাণী ছড়িয়ে দিয়ে আর দলবল সহকারে ড্রেনের ধারে গিয়ে ওষুধ ছিটানোর মহড়া দিয়ে টেলিভিশনে হাস্যোজ্জ্বল বদন দেখালে শুরু হওয়া প্রলয় থেমে যাবে না। ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যেসব মশা আতঙ্ক সৃষ্টি করে প্রলয়কা- ঘটাতে সক্ষম, সেসব পতঙ্গ মেয়র-মন্ত্রী-নেতা-কর্তাব্যক্তিদের চেয়ে হাজারো গুণ বেশি শক্তিশালী। মশাকে অবহেলা-অবজ্ঞা করে স্বেচ্ছাচারী-অহঙ্কারী মহান স্রষ্টাকে অস্বীকারকারী ইতিহাস-কুখ্যাত সম্রাট নমরূদ মাত্র একটি মশার যন্ত্রণাতেই পটল তুলেছিলেন। মশারা রক্তবীজের বংশধর কিনা জানি না, তবে পৌরাণিক কাহিনির ভয়ঙ্কর দৈত্যরাজ রক্তবীজের চেয়েও মনে হয় অনেক বেশি প্রতাপশালী।

যারা পৌরাণিক কাহিনি পড়েছেন তারা জানেন, রক্তবীজ নামক দৈত্যটিকে কেউ মারতে পারত না। আঘাতের কারণে তার গা থেকে রক্ত বের হলে প্রতিটি রক্তের ফোঁটা থেকে একটি করে দৈত্যের জন্ম হতো। ফলে সে ছিল অপ্রতিরোধ্য। এডিস মশার সৃষ্ট ডেঙ্গুও কী ওরকমটি নয়? ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ালে যে কোনো মশাই আরেকটি এডিসের মতো প্রাণঘাতী মশায় পরিণত হয়। জনে জনে স্থানে স্থানে ঘটে এর বিস্তার, ঠিক রক্তবীজ দৈত্যের মতো। অতএব, সাবধান। প্রস্তুতি নিতে হবে সবাইকে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। নিজকে যেমন বাঁচাতে হবে, তেমনি অন্যদেরও বাঁচাতে হবে। নির্মূল করতে হবে এদের উৎপত্তিস্থল। রোধ করতে হবে এদের জন্ম। নিঃশেষ করে দিতে হবে এদের টিকে থাকার সব উপায়-উপকরণ। জয়ী হতেই হবে মশার বিরুদ্ধে। যেহেতু ‘ও’ এবং ‘বি’ গ্রুপের রক্তবাহী মানুষরা স্ত্রীজাতীয় মশাকুলের প্রধান টার্গেট, সেহেতু তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে সর্বাগ্রে, অন্যদের সঙ্গে নিয়ে। সাবধান হতে হবে কালো, নেভি আর লাল রঙের কাপড় পরিহিতদের। সুযোগ পেলেই পুরুষ মশাদের পেছনে ঠেলে ফেলে দিয়ে স্ত্রী মশারা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে লাল-নীল-কালো পোশাকধারীদের ওপর। তাই নির্মূল করতে হবে তিন হাজার পাঁচশ বারো প্রজাতির সব মশাকেই।

চায়না ডেইলি নামক পত্রিকা থেকে জানা যায়, চীন সরকার ডেঙ্গুকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডেঙ্গু বিতাড়নের জন্য এডিস মশা নির্মূলের লক্ষ্যে চীনের গুয়াংজু প্রদেশে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ‘দ্য নেচার’ নামক একটি প্রকৃতিবিষয়ক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা এডিস নির্মূলের বিষয়টি তুলে ধরেছে। মূলত সেখানে যা করা হয়েছিল তা হলো এমন কিছু পদক্ষেপ যা এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ করতে পারে এবং মশার রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হ্রাস পায়। তারা এডিস মশাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজটি করেছে মূলত এ কারণে যে, এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশাই ডেঙ্গু, জিকা আর চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটাচ্ছে সারা দুনিয়ায়। চীনের বিজ্ঞানীরা দুই বছর সাধনা করে দুটি বিদ্যমান পদ্ধতির সমন্বয় করে গুয়াংজুর দুটি দ্বীপপুঞ্জ থেকে এ মশার পরিমাণ চুরানব্বই শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার আর্মব্রাস্টার তাদের উদ্ভাবিত দুই স্তরের পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছেন বলেও খবরটিতে প্রকাশ পেয়েছে। একটি স্তর হলো বিকিরণের মাধ্যমে মশাকে নির্গত করা এবং আরেকটি স্তর হলো ওলবাখিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেনের মাধ্যমে ডিম থেকে মশার উৎপাদন রোধ করা। আমাদের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কৌশল উদ্ভাবন করতে পারেন কিনা ভেবে দেখতে পারেন। ইতোমধ্যে সারাদেশের সব জেলায় ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু যাতে মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আশু পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি।

ইংরেজদের মতো আমরা মশাকে ভয় পাই না বটে, তবে স্ত্রী মশা পানিতে একসঙ্গে ৩০০ এবং জীবদ্দশায় দশ হাজার পর্যন্ত ডিম ছেড়ে দিয়ে কীভাবে জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে তা তো স্বচক্ষে সবাই দেখতে পাচ্ছি। পাঁচ হাজার বছর আগে মিসরের ফারাওরা মশারি আবিষ্কার করে আমাদের মশার হাত থেকে সাময়িক আত্মরক্ষার পথ দেখিয়েছেন। ইতিহাসের তথ্যানুসারে, খ্রিস্টপূর্ব পঁচাত্তর হাজার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীরা মশাতাড়ানিয়া বিছানা বানিয়ে আত্মরক্ষা করার প্রয়াস পেয়ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিনিরা স্প্রে ব্যবহার করে ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।

১৯৭২ সালের দিকে বাজারে প্রচলিত পারমেথ্রিন নামক মশার কামড়নিরোধী মলমটি কোথায় হারিয়ে গেল? ২০০৯ সালে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘অক্সিটেক’ জেনেটিক্যালি মোডিফাইড মশা ছেড়ে দিয়ে প্রায় নব্বই শতাংশ মশা কমানো সম্ভব বলে দাবি করেছিল। সাত বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় মশার ডেঙ্গু বিস্তারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এসব আবিষ্কার-উদ্ভাবন থেকে আমরা কোনো শিক্ষা কেন গ্রহণ করতে পারলাম না? চোখ বন্ধ করে থাকার সময় শেষ। এখন শুধু চামড়ার দুই নয়ন নয়, মস্তিষ্কের গহনে লুকিয়ে থাকা তৃতীয় নয়নও ব্যবহার করার সময় এসে গেছে। সংশ্লিষ্টরা কি একটু সতর্ক হবেন, ভেবে দেখবেন বিষয়গুলো? আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশায় থাকলাম।

ড. এম এ মাননান : উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলাম লেখক

advertisement