advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অকার্যকর হয়ে যাবে অবৈধ হ্যান্ডসেট

আজহারুল ইসলাম অভি
৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০১৯ ০১:১৭
advertisement

১ আগস্ট থেকে নকল বা ক্লোন আইএমইআই-সংবলিত মোবাইল হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হলে তা পরে অকার্যকর করা হবে। এনইআইআরের মাধ্যমে এ ধরনের সেটের সেবা নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ আজহারুল ইসলাম অভি।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গ্রাহকদের আগের কেনা যেসব সেট এরই মধ্যে নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে, সেসব সেটের বেশিরভাগের আইএমইআই নম্বর এখনো আইএমইআই ডেটাবেজে সংযুক্ত হয়নি। নির্ধারিত পদ্ধতিতে মেসেজ পাঠিয়ে এসব সেটের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। তবে এনইআইআর চালু হলে এসব সেটের আইএমইআই নম্বর সরাসরি ডেটাবেজে যুক্ত হয়ে যাবে।

বৈধ ফোন চিনবেন যেভাবে : এ বিষয়ে বিটিআরসি বলছে, মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে এর আইএমইআই নম্বর সঠিক কিনা বা বিটিআরসির আইএমইআই ডেটাবেজে নিবন্ধিত কিনা, তা যাচাই করে নিতে হবে। এর পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেনার রসিদ নিয়ে তা সংগ্রহে রাখতে হবে। আপনার ফোনটি অবৈধ কিনা তা যাচাই করতে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে কণউ লিখে স্পেস দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলে ফিরতি মেসেজে জানানো হবে, সেটটি ডেটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে কিনা। কোনো হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর জানতে হলে ওই সেট থেকে *#০৬# ডায়াল করতে হবে। অথবা মোবাইলের প্যাকেটের গায়েও এই নম্বর পাওয়া যাবে।

হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত হবে যেভাবে : ব্যবহারকারীর হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি সেটে সক্রিয় করলেই সেটটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে। তবে একই সেটে দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করতে চাইলে সেই সিমটিও একই নামে নিবন্ধিত হতে হবে। কারও একাধিক সেট থাকলে তিনি অন্যান্য সেটে যে সিম সক্রিয় করবেন, সেই সিমটি যে নামে নিবন্ধিত ফোনটিও সেই নামে নিবন্ধিত হতে হবে।

হ্যান্ডসেট ক্যাটাগরি : এই ডেটাবেজের সেটগুলোকে ব্ল্যাক, হোয়াইট ও গ্রেÑ এ তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। এখানে ‘হোয়াইট’ বলতে বোঝানো হয়েছে বৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশে বৈধভাবে তৈরি হ্যান্ডসেটগুলোকে, অর্থাৎ যে সেটগুলো বিটিআরসি নিবন্ধিত সেগুলোকে। ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ক্লোন, অনুমোদনহীন নকল, অবৈধভাবে আমদানি হয়ে আসা সেটগুলোকে। এ সেটগুলো অবৈধ হলেও এবারের মতো সেগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হবে। যারা এরই মধ্যে এগুলো ব্যবহার করছেন বা দেশের বাইরে থেকে আনিয়েছেন, তাদের একটি সময় বেঁধে দেওয়া হবে, যেন তার মধ্যেই তারা নিবন্ধিত সিম দিয়ে সেটটিকে সক্রিয় করে নেন। অন্যদিকে চুরি হওয়া হ্যান্ডসেটের আইএমইআই, মেয়াদ উত্তীর্ণ আইএমইআই যুক্ত সেট, নকল আইএমইআই সম্পন্ন হ্যান্ডসেটগুলোকে ‘ব্ল্যাক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কমন সার্ভার : একটি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির জন্য কমন সার্ভার তৈরি করবে। এর নাম হবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)। এতে এনইআইআরে নতুন কোনো ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা এনইআইআরে চলে আসবে।

সেট বিক্রি করতে গেলে বা হারিয়ে গেলে যা করবেন : কেউ তার নিবন্ধিত সেট অন্য কাউকে দিতে চাইলে বা বিক্রি করতে চাইলে সেটটি পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে। সেটি কীভাবে করা হবে, তা কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবে। এ ছাড়া যদি আপনার ফোন হারিয়ে যায় বা চুরি যায়, সে ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানটি আপনার পরিচয় শনাক্ত করে ফোনটি লক করে দেবে। যেন আপনার ফোনটি কেউ কোথাও ব্যবহার করতে না পারে।

করপোরেট সিমের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম : করপোরেট সিম ও সেটের ক্ষেত্রে নিয়মটা কিছুটা ভিন্ন। আপনার অফিস যদি আপনাকে একটি সিম ও হ্যান্ডসেট দেয়, সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই সেটটি আগে নিজের নামে নিবন্ধন করে নিতে হবে। তার পর তাতে কোম্পানির সিম ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া সরকার চাইলে তাদের বিশেষ নির্দেশনায় বিশিষ্ট তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের হ্যান্ডসেট ব্যবস্থাপনার বাইরে রাখতে পারবে।

advertisement