advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রাম কাস্টমসের দেড়শ কোটি টাকা ফাঁকি

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম
৭ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৮:১১
advertisement

 

নয় বছর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমসের দেড়শ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমসের সাত কর্মকর্তা, ১৭ আমদানিকারক-সিএনএফ এজেন্টের কর্মকর্তাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ঢাকার সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা, সহকারী পরিচালক আফরোজা হক খান এবং উপসহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন।

নয় বছর আগের ওই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে ১৭১টি চালান চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১৮ চালানের নথি গায়েবের ঘটনায় গতকাল মামলা হয়। অন্য চালানগুলো তদন্তাধীন। এ ১৮ চালানে ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কাস্টমসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ শুল্কহারের পণ্য নিম্ন শুল্কহারে শুল্কায়ন, মূল সিআরএফ (ক্লিনিং রিপোর্টস ফাইন্ডিং) সরিয়ে জাল সিআরএফ দিয়ে শুল্কায়ন কাজ শেষ করা, আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্য আমাদানিযোগ্য দেখিয়ে খালাস এবং ডেটাবেস অনুসরণ না করে শুল্কায়নের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম

 

কাস্টম হাউসের ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ১৭১টি চালানের নথি গায়েব করে সরকারের দেড়শ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়।

দুদকের মামলায় আসামি করা হয় সেই সময়ের সাত কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তাসহ ১৭ আমদানিকারক ও সিএনএফ এজেন্টের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা হলেন অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম, হুমায়ুন কবির, প্রাণবন্ধু বিকাশ পাল, মো. নিজামুল হক, সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, মো. সফিউল আলম ও মো. সাইফুল রহমান।

মামলার এজাহারে কাস্টমস কর্মকর্তা ছাড়াও মেসার্স গ্যাবী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মো. কাসিফ ফোরকান, এমআর করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন শাহ, ঢাকার আমদানিকারক মো. আবুল হাসনাত সোহাগ, মো. মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রামের কিংশিপ শিপিংয়ের মালিক মির্জা মো. আহসানুজ্জামান, ঢাকার একে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক এমএ আলীম, ঢাকার জেজে করপোরেশনের মালিক মো. মুসা ভূঁইয়া, চট্টগ্রামের এমসি শিপিং এজেন্সিজের মালিক মইনুল আলম চৌধুরী, ঢাকার মেসার্স শামস ট্রেডের স্বত্বাধিকারী হাজী ফোরকান আহমেদ, সিএনএফ এজেন্ট মো. নুরুল আলম, মেসার্স জেডআই ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মেসার্স টরেন্টো ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. রুবেল আহমেদ, মেসার্স সাহারা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. আইনুল হক, ঢাকার মেসার্স সামি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাহিদুর রহমান, চট্টগ্রামের আমদানিকারক মো. সাইফুল ইসলাম, ঢাকার মেসার্স আবেদা ট্রেডার্সের মালিক ফাহাদ আবেদীন সোহান ও ঢাকার পূজা এজেন্সিজের মালিক জোতিময় সাহা। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে পণ্য খালাসের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস সূত্র জানা যায়, একই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটি প্রতিবেদন পাঠান তৎকালীন পানগাঁও কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ। তাতে ১৭১টি নথি গায়েব, রাজস্ব ফাঁকি ও এর সঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৩৫ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় কাস্টম হাউসে মামলাও হয়। এবার দুদকও একই ঘটনায় মামলা করল।

দুদকের সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম ১-এর উপপরিচালক লুৎফুর কবীর চন্দন আমাদের সময়কে বলেন, ২০১০-১১ সালে কিছু কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানিকারক-সিএনএফ এজেন্টের যোগসাজশে নথি গায়েব করে পণ্য খালাস করলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারায়। এ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। ভবিষ্যতে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement