advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গরুর চামড়া ৩০০, খাসির ৩০ টাকা!

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০১৯ ১৩:২২ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০১৯ ১৭:৩২
advertisement

ময়মনসিংহের ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির চামড়া। কম দামে বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।

ঈদুল আজহার সকালে পশু কোরবানির পর পরই ফুলপুর পৌর এলাকার পাড়া মহল্লায় ও ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিস হিসাবে গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন। একেকটি গরুর চামড়া আকার ভেদে ২০০ থেকে ৬০০/৭০০ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘৬০০ টাকা দিয়ে কিনে নিলাম কিন্ত বিক্রি করলাম ৪০০ টাকায়।’

এদিকে ঈদের দিন বিকেল থেকেই ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছোট ট্রলি, ভ্যানে ও রিকশায় করে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড অস্থায়ী চামড়ার হাটে। ফুলপুরের এই চামড়ার হাটে পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে কোরবানির চামড়া। ট্যানারি প্রতিনিধি ও আড়ৎদাররা সিন্ডিকেট করে কোরবানির পশুর চামড়া কম দামে কিনছেন বলে অভিযোগ মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।

এ বছর ঢাকার বাইরে প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু ফুলপুরে তা কেউ মানেনি।

ঈদের রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে চামড়ার হাটে গেলে চামড়া ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, খাসির চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকায় কেনা হচ্ছে। আর গরুর চামড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতাছি।’

বৈঠামারী গ্রামের রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, ‘আমরা সাত জনে মিলে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কোরবানি করেছিলাম। পরে এর চামড়া নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও কেউ চামড়া নিতে চায় না। অবশেষে একজন পাইকারের নিকট যাইস্যা বিক্রি করেছি।’

অনেকটা একই সুরে কথা বলেন হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন রিপন। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচজনে একটা গরু কোরবানি দিছি। চামড়া বিক্রি করে ভাগে পাইছি মাত্র ১০০ টাকা। অন্তত ১০টা মাদ্রাসা থেকে চামড়ার টাকা চাইয়া গেছে। আর আশপাশের গরিবরা তো আছেই। অহন কারে কইথ্যে দিব বলেন?’

ঈদের দিন সোমবার রাতে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চামড়া বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ‘চামড়ার দর খুবই কম। রূপসী বাঁশাটী, বালিয়া, বওলা ও পাগলা গ্রামে খবর নিয়ে জানা যায়, ওইসব এলাকায় চামড়ার দর বাসস্ট্যান্ডের চেয়েও কম। উপজেলার পারতলা গ্রামের আবুল কাসেম চারটি গরুর চামড়া নিয়ে আমুয়াকান্দা ব্রিজের গোড়ায় বসে আছেন।’ তিনি বলেন, ‘২ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। আমার চারটা চামড়া ৫০০ টেহার উপরে কেউই দাম কয় না। তবে জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলূম গোদারিয়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক জানিয়েছেন তাদের ৫৩টি চামড়া প্রতিটি ৬শ টাকা করে বিক্রি করেছেন। আর খাসি বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা করে।’

চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫০০ টেহার উপরে অহন কোনো চামড়া কিনছি না। খাসির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাগল-খাসি আমরা কিনি না।’

advertisement