advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ

অনলাইন ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০১৯ ২১:৫৮ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০১৯ ২২:৪৫
advertisement

কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। উপত্যকাটির সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে এক নিবন্ধে এ আহ্বান জানিয়েছেন এইচআরডব্লিউয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।

গতকাল সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে মীনাক্ষী লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহ হয়ে গেল ভারতীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে। কাশ্মীর এখনো নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী, তাদের প্রধান নেতারা কারাবন্দী হয়ে আছেন। ফোনের নেটওয়ার্ক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিন কাশ্মীরিরা তাদের প্রধান মসজিদে নামাজও পড়তে পারেননি।’

কাশ্মীরি জনগণের ওপর ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জুলুমের কথা বলা হয়েছে নিবন্ধে। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি, রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি, এমন কথাও শোনা গেছে। প্রতিবাদরত সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে, এমন খবরও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এসব অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’

অতীথে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে অনেকে মারা গেছেন জানিয়ে মীনাক্ষী লিখেছেন, ‘১৯৪৭ থেকে শুরু করে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই বিদ্রোহে লিপ্ত। ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তান সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলনে অনেক মানুষের প্রাণ গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এসব আন্দোলনের জবাব দিয়েছে গুম, নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে। এই অঞ্চলে আর মানবাধিকার লঙ্ঘন কাম্য নয়।’

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সরকারকে দ্রুত নমনীয় হতে আহ্বান জানিয়েছেন মীনাক্ষী ওই নিবন্ধে বলেন, ‘রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া উচিত, যোগাযোগের অচলাবস্থা দূর করা উচিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনগুলো একটি সাময়িক সময়ের জন্য কিছু অধিকার স্থগিত রাখার বিষয়কে সমর্থন দিয়ে থাকে। কিন্তু বিষয়টা যখন নিয়মিত হয়ে যায়, তখন সেটি সমর্থন করা যায় না। কাশ্মীরের পরবর্তী প্রজন্মকে যেন হিংসার আগুনে না পুড়তে হয়, সে কারণে ভারত সরকারের এখনই পিছু হটা উচিত।’

সম্প্রতি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের একটি প্রস্তাব এবং ওই রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-এ বিভক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ভারত।

এরপর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের ভেতর চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা খর্ব করার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করে আসছে পাকিস্তান।

advertisement