advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৬০০ টাকায় চামড়া কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি

জাহিদুর রহমান,সাভার
১৪ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৭ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৭
ছবি : আমাদের সময়
advertisement

গাজীপুর থেকে ১৫০টি গরুর চামড়া একটি মিনি ট্রাকে করে নিয়ে আমিনবাজারে এসেছিলেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হুকুম আলী (৫৫)। লাভ না হলেও এখানে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশ্বাস তার।

লাভের আশায় এবারও এসেছেন। তবে চামড়া বিক্রি তো দূরের কথা, হতাশা আর কান্নাকে পুঁজি করে ফিরেছেন তিনি। যে চামড়া কিনেছিলেন ৬০০ টাকায় সেটি বিক্রি করেছেন ১২০ টাকায়। এভাবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ক্ষতি করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।

হুকুম আলী একা নন। তার মতো অনেক ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হবার স্বাক্ষী সাভারের আমিনবাজার। কেউ তো চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কের পাশে ফেলেই চলে গেছেন।

আমিনবাজারের কাঁচা চামড়ার আড়তদার মোহাম্মদ আলী আমাদের সময়কে বলেন, ‘চামড়া শিল্প নিয়ে গভীর সংকট গত ৫৬ বছরেও দেখিনি। সরকার আগেই দর বেঁধে দিয়েছিল। সেই দরের কিছুটা কমেই চামড়া কিনে যারা এই আড়তে এনেছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা না পেয়ে চামড়া ফেলেই ফিরে গেছেন।’

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতেও চোখে পড়েছে অভিন্ন চিত্র। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে চামড়া কেনা দূরের কথা, এর অর্ধেক দামে  চামড়া সংগ্রহ নিয়েই অনীহা লক্ষ্য করা গেছে এখানকার মালিকদের অনেককে। যে কারণে চামড়ার বৃহৎ আড়ত বলে পরিচিত সাভারের আমিনবাজারে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কের পাশেই চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি স্বীকার করেন ঢাকা ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমাদের চাহিদা কম বলে এবার চামড়া তেমন কিনিনি। যে কারণে দেশের কাঁচা চামড়ার অন্যতম বৃহৎ আড়ত বলে পরিচিত আমিন বাজারে যেখানে সপ্তাহ ধরে হাকডাক থাকে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে সব সময় সরগরম থাকে এই বাজারে এখন শুনশান নিরবতা।’

advertisement