advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গরু ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, দুই থানার ঠেলাঠেলিতে ৪ দিনেও হয়নি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০১৯ ২০:২৯ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৯ ২১:৫১
টাকা ছিনতাইয়ের পর এভাবেই রাস্তায় শুয়ে কাঁদেন গরু ব্যবসায়ী। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রাজধানীতে মো. হানিফ শেখ নামে এক গরুর ব্যবসায়ীর ২৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে গেছে ৪ দিন। কিন্তু শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর থানার ঠেলাঠেলিতে এ ৪ দিনেও হয়নি মামলা। মামলা তো দূরে থাক আজ বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ।

ঈদের আগের দিন (রোববার) সকাল ৮টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মো. হানিফ শেখের ২৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী গরুর ব্যবসায়ী জানান, ১৮টি গরু নিয়ে তিনি তেজগাঁওয়ের কলোনি বাজার পশুর হাটে এসেছিলেন। ঘটনার আগের দুই-তিন দিনে তিনি ১৬টি গরু বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা নিজের কাছে না রেখে রোববার সকালে ছেলে, মেয়ের  জামাই ও শেখ বাচ্চু নামে এক রাখালকে দিয়ে বাড়ি পাঠাচ্ছিলেন। হাটের পাশে থেকে একটি সিএনজি নিয়ে গাবতলির দিকে রওনা হন তারা। কিন্তু পথেই ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

শেখ বাচ্চু আমাদের সময় অনলাইনকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২৮ লাখ টাকা নিয়ে তারা তিনজন একটি সিএনজিতে করে গাবতলি যাচ্ছিলেন। কিন্তু আসাদ গেট এলাকায় যাওয়ার পরে হঠাৎ চালক সিএনজি থামিয়ে দিয়ে বলে ইঞ্জিনে সমস্যা। এই বলে চালক সিএনজি থামিয়ে নামেন। সঙ্গে সঙ্গেই দুইজন লোক এসে বলে তোরা ছিনতাইকারী। সিএনজি থেকে নেমে আয়। এমন কথা শুনে তারা নিজেদের গরু ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়।

বাচ্চু শেখ জানান, তবুও কথা না শুনে চেক করার নাম করে সিএনজি থেকে নামায়। এরপর একটি স্থানে নিয়ে তারা নানা প্রশ্ন করা শুরু করে। ইতিমধ্যে সিএনজি চালক টাকার ব্যাগসহ লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে তারা চিৎকার দেওয়া শুরু করলে উপস্থিত ব্যক্তিরাও দ্রুত সেখানে থেকে সটকে পড়েন।

ভুক্তভোগী হানিফ শেখ জানান, ঘটনার পরে তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে হাটের পুলিশ সদস্যদের পরামর্শে মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছেন তার ছেলে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

আজ সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি আমাদের সময়কে বলেন, ঘটনাস্থল আসাদগেট বলছে ভুক্তভোগীরা। ওই এলাকা মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়। বিষয়টি তদন্ত করছে ওই থানা পুলিশ।’ তাই এই ছিনতাইয়ের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। 

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি.জি বিশ্বাস বলেন, ‘ওই ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থল শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায়। সুতরাং মামলা হলে ওই থানায় হওয়ার কথা। আমার থানায় এখনও এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

advertisement