advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডেঙ্গু থেকে মুক্তি চেয়ে প্রার্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই পবিত্র দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি দেন মুসলমানরা। দেশের প্রধান ঈদ জামাতে বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।

প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর ছোবলে এবার প্রাণহানি হয়েছে শতাধিক। যার কারণে আনন্দের ঈদে ডেঙ্গু আতঙ্কে ছিল মানুষ। ঈদ ছুটিতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে স্বজনসহ আক্রান্তদের। এ থেকে মুক্তি পেতে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এ জামাতে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, বয়সের মুসলমান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও

রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ সকাল ৮টায়

জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেন।

ঈদের দিন সকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কূটনীতিক, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

দুই হাত তুলে তিনি সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে বলেন, সবার ভুলগুলো যেন তিনি ক্ষমা করে দেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি যেন হয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর যেন মঙ্গল হয়, পৃথিবীর সব মজলুম মানুষ যেন শান্তি পায়। বিশেষভাবে গত কিছুদিন যে অবস্থাটা আমরা লক্ষ করেছি, বড় ধরনের একটি বালা, একটি ব্যাধির সৃষ্টি হয়েছিল, ইতোমধ্যে আস্তে আস্তে একটু কমতেও শুরু করেছে। এক ধরনের রোগ জীবাণু, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু মানুষ ইন্তেকাল করেছেন, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, অনেকে এখনো হাসপাতালে আছেন। যারা অসুস্থ আছেন বিশেষভাবে দোয়া আল্লাহ যেন তাদের নেক হায়াত দান করেন। আমাদের প্রতি রহম করেন...।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠা কয়েকজন। তারা বলেন, এই জ্বরের ভয়াবহতা কী, কেউ আক্রান্ত না হলে বুঝতে পারবেন না। মোনাজাতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে আল্লাহ যেন মানুষকে মুক্তি দেন সে দোয়া করেছি।

ঈদের দিন বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া অফিস; তবে রাজধানীতে ঈদের নামাজের সময় বৃষ্টির ভোগান্তি হয়নি।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঈদ জামাত ঘিরে ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। যারা ঈদ জামাতে অংশ নিতে এসেছেন, তাদের যেতে হয়েছে তল্লাশির মধ্য দিয়ে। জাতীয় ঈদগাহের জামাতে এবার লোক হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম।

বায়তুল মোকাররমে এবারও সকাল ৭টা থেকে পাঁচটি জামাত হয়েছে। পাড়ায় মহল্লায় মসজিদ আর ঈদগাহগুলোর সীমানা ছাড়িয়ে রাস্তায় ম্যাট ও জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে বহু মানুষকে।

প্রতিবারের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত হয়। সেখানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিগণ জামাতে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন সবাই; বাড়ি ফিরে পশু কোরবানি দেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

advertisement