advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘তুমি বাংলাদেশের হৃদয়’

ড. আতিউর রহমান
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

আজ ১৫ আগস্ট। বাঙালির বড়ই দুঃখের দিন। যার চোখে ধরা পড়েছিল ‘স্নিগ্ধ মুখশ্রী’র সোনার বাংলা তার নির্মম প্রয়াণের দিন আজ। ‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে’ (নির্মলেন্দু গুণ) রাজনীতির যে অমর কবি শুনিয়েছিলেন ‘মুক্তির সংগ্রামের’ অমর কবিতাখানি তার অকস্মাৎ বিদায়ের দিন আজ। ওই দিনের কালরাতে

বাংলাদেশের আকাশে ঘটেছিল বিনামেঘে বজ্রপাত। যিনি হাত বাড়ালেই ধরে ফেলতেন ‘সাড়ে সাত কোটি হৃদয়’ সেই মহানায়কের এমন ট্র্যাজিক বিদায় মেনে নিতে পারছিল না এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিপ্রিয় মানুষ। শ্রাবণের আকাশ ফেটে বইছিল অবিরল অশ্রুধারা। নিথর হয়ে গিয়েছিল আমাদের চারপাশের প্রকৃতি। যার চোখ ছিল আর্দ্র সন্তানের প্রতি স্নেহের ফল্গুধারায়, উষ্ণ হৃদয় ছিল যার এ দেশের সকল প্রাণী, মানুষ ও প্রকৃতির জন্য, সেই মানুষটিকে হঠাৎ করেই শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল তারই গড়া স্বাধীন দেশের কিছু কুসন্তান। যার ‘পায়ের শব্দে নেচে ওঠে পদ্মার ইলিশ’ সেই মানুষটির এই হঠাৎ চলে যাওয়া ছিল স্বদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা এর পর থেকেই বাংলাদেশ হাঁটতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঠিক উল্টো দিকে। সেই পথ থেকে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা মোটেও সহজ ছিল না। পাকিস্তানি ধ্যান-ধারণায় পোক্ত সামরিক শক্তির মদদপুষ্ট সুবিধাভোগী অভিজনদের সেই সময়ে আস্ফালন যারা আমাদের মতো স্বচোখে দেখেনি তারা আজ তা অনুভবও করতে পারবে না। সে ছিল এক নিকষ কালো সময়। ক্যু, কাউন্টার ক্যু, বিচারের নামে প্রহসন করে মুক্তিযোদ্ধাদের নিঃশেষকরণ, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী প্রধান প্রধান নেতাদের জেলেই খুন, অসংখ্যজনের জেল-জুলুম, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধকর্মীদের ওপর নির্মম অত্যাচার, দেশের অর্থনীতিকে ফের কতিপয় তন্ত্রের হাতে তুলে দিয়ে বৈষম্যের পথে ধাবিত করা, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের জীবনচলার সুযোগ সংকুচিত করা, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার ধারণা থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়াসহ অসংখ্য গণবিরোধী উদ্যোগের কথা হয়তো এখন অনেকেই ভুলতে বসেছে। এই আর্থ-সামাজিক পরিবেশেই বঙ্গবন্ধুকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের এক অপরাজনীতির সূচনা করে পাকিস্তানবাদী সেনাশাসকরা। তারা বঙ্গবন্ধুকে সরকারি গণমাধ্যমে ‘ব্ল্যাক আউট’ করার উদ্যোগ নেয়। বলতে শুরু করে তিনি কেউ নন। স্বাধীনতার ডাক নাকি তিনি দেননি! এ দেশের কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা এ অপপ্রয়াস মেনে নেননি। তারা নিরন্তর এ অপশক্তির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। আমার মনে হয় না একজন মহানায়ককে নিয়ে এত কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছড়া আর কোনো দেশে এমন করে লেখা হয়েছে। আমাদের আগামী প্রজন্মের মনে বঙ্গবন্ধুকে নানা লেখনী, আবৃত্তি, অভিনয় ও সামাজিক মাধ্যমের সক্রিয়তার মাধ্যমে এমন করে তুলে ধরার উদাহরণ অন্য কোনো দেশে রয়েছে কিনা তা সত্যি আমার জানা নেই। শুধু একটি কবিতার কয়েকটি লাইন আজ পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি। মহাদেব সাহা, ‘এই নাম স্বতোৎসারিত’ কবিতায় লিখেছেন :

‘...তুমি কেউ নও, বলে ওরা, কিন্তু বাংলাদেশের আড়াইশত নদী বলে,

তুমি এই বাংলার নদী, বাংলার সবুজ প্রান্তর

তুমি এই চর্যাপদের গান, তুমি এই বাংলা অক্ষর,

বলে ওরা, তুমি কেউ নও, কিন্তু তোমার পায়ের শব্দে

নেচে ওঠে পদ্মার ইলিশ;

তুমি কেউ নও, বলে ওরা, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান আর নজরুলের

বিদ্রোহী কবিতা বলে,

তুমি বাংলাদেশের হৃদয়।’

একদিনেই এই বিশাল হৃদয় তৈরি হয়নি। শত্রুর সঙ্গে নির্ভয়ে লড়েছেন তিনি আজন্ম। ছিলেন তিনি শান্তিপ্রিয়। কিন্তু ভয়-ডর র্ছিল না তার এতটুকু। লড়াইয়ের ডাক দিতে এতটুকু কাঁপেনি তার বুক। হাসিমুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত ছিলেন ফাঁসির দড়ি পরতে। আপস শব্দটি ছিল না তার অভিধানে। যা কিছু বাঙালির জন্য গুরুত্বের তাই ছিল তার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। যা কিছু ছিল মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই ছিল তার কাছেও গুরুত্বের। একই সঙ্গে লড়েছেন ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, অনুদার সমাজ ও সংস্কৃতি ভাবনার বিরুদ্ধে। আবার সর্বক্ষণ বসবাস করেছেন স্বপ্নের সঙ্গে। আমরা তো জানি অনায়াসেই তিনি ধরতে পারতেন বাংলাদেশের নীলাকাশ। সহজেই পৌঁছে যেতেন কোটি প্রাণের দুয়ারে। নিরন্তর স্বপ্ন দেখাতে পারতেন তরুণ প্রজন্মকে। তাদের জন্য স্বপ্নের সীমানায় পৌঁছে যাওয়ার ছিল তার গভীর আমন্ত্রণ।

তার বর্ণিল ব্যক্তিত্বই ছিল একজন বড় মাপের শিল্পীর মতোই আকর্ষণীয়। তার চলা, বলা, অঙ্গুলি হেলন, চওড়া বুক, উদ্যত হাত, ঋজু মেরুদ-, স্মিত হাসি, ভেজা চোখ, যখন তখন রবীন্দ্র-নজরুলের পঙ্ক্তি উচ্চারণ, একাত্তরে বিপর্যস্ত নারীকে নিজের মেয়ের সম্মান দেওয়া, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার, সাতই মার্চের বজ্রকণ্ঠ, দুর্ভিক্ষে দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য আহাজারি, দাঙ্গাপীড়িত মানুষের জন্য ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’ বলে ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়া, জেলে বসে ‘লদু’, ‘কাফিলুদ্দিন’দের জন্য দুঃখে কাতর, এ দেশের কৃষকরাই সবচেয়ে নির্যাতিত শ্রেণি বলে তার সাহসী উচ্চারণÑ এ সবই তার ব্যক্তিত্বের মনোহর করা দ্যুতি। তার ন্যায়বোধ সেই দ্যুতির সৌন্দর্যের আরেক নাম। সর্বদাই আপসহীন এই মহানায়ক সক্রেটিসের মতোই হ্যামলক না পান করলেও স্বেচ্ছায় বুক পেতে দিয়েছেন ঘাতকদের সামনে। ছাত্রজীবনেও যেমন মুচলেকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব রক্ষা করার মতো আপসকামিতা তার মধ্যে ছিল না, ফাঁসির মঞ্চের কাছে দাঁড়িয়েও তিনি পাকিস্তানি নরপিশাচদের অনুকম্পা চাননি। ছিলেন তিনি প্রকৃত বীর। তাই মৃত্যুকে ভয় করেননি; বরং তার সেই সীমাহীন সাহসকে ছাড়িয়ে দিয়েছেন পুরো সমাজের মনে। ছিলেন তিনি মানবিক এবং নান্দনিক। ছাত্রজীবনে গরিব ছাত্রদের জন্য মুষ্টি চাল সংগ্রহ করতেন তার শিক্ষকদের নেতৃত্বে। তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত বুভুক্ষু মানুষের জন্য লঙ্গরখানা খুলেছেন বেকার হোস্টেলে ও রাজনৈতিক অফিসে। দেশভাগের সময় দাঙ্গায় আক্রান্ত শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ শিবির খুলেছেন সুদূর আসানসোলে ও পাটনায়। কর্তন প্রথার কারণে গ্রামের ক্ষেতমজুর তথা দাওয়ালদের দুঃখ মোচনের জন্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নির্ভয়ে। ক্ষতিপূরণবিহীন জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের দাবি তুলেছেন প্রজাদের কল্যাণের কথা মনে রেখে। খাদ্য, আবাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ে সদাতৎপর ছিলেন তিনি। সরকারের গোয়েন্দাদের তথ্য থেকেই আমরা এসব কথা জানতে পারি। অর্থনৈতিক মুক্তির ভাবনা তার মনে গেঁথে গিয়েছিল সেই ছাত্রজীবন থেকেই। স্বল্প আয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া, চুয়ান্নর নির্বাচনে জিতে মন্ত্রী হয়েই সমবায়ীদের পঁচিশ লাখ টাকা অনুমোদন, পরবর্তী সময়ে ফের মন্ত্রী হয়ে এ দেশের ক্ষুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাদেশিক সরকারের হাতে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইসেন্স, ক্ষমতা প্রদানের দাবি তিনিই প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। পনেরোশ মাইল দূরে থাকা পাকিস্তানের দুই অংশের জন্য যে এক অর্থনীতি চলতে পারে না সে কথা তিনিই প্রথম মুখ ফুটে বলেছিলেন। দুই অঞ্চলের বৈষম্য দূর করার জন্য অর্থনৈতিক কমিশনের দাবি তিনিই প্রথম করেছিলেন। আমাদের দেশপ্রেমিক অর্থনীতিবিদরা এই দাবিকে সামনে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা তার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। সারা বাংলাদেশ তিনি চষে বেড়াতেন। মানুষের দুঃখ বঞ্চনা খুব কাছে থেকে দেখতেন। আর তাই তিনি দিতে পেরেছিলেন ছয় দফা কর্মসূচি। এই ছয় দফা আসলে ছিল এক দফা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ওই ছয় দফাতেই নিহিত ছিল। তাই তার জন্য জেল-জুলুম অবধারিত ছিল। ছিল রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ও মামলা। বৈষম্যে বঞ্চিত বাংলাদেশের মানুষ ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন তাদের সহমর্মী নেতা শেখ মুজিবকে। বিশেষ করে ছাত্র ও তরুণরা ছিল তার উদ্দীপনামূলক নেতৃত্বের বড়ই অনুরক্ত। তাই অনায়াসেই জেলের তালা ভেঙে মুক্ত করে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল এরাই। এর পরের কাহিনি আমাদের জানা। এলো সত্তরের নির্বাচন। বিজয়ী শেখ মুজিব হলেন উপেক্ষিত। তাই তিনি দিলেন মুক্তির ডাক। অসহযোগ আন্দোলনের এক পর্যায়ে শুরু হলো গণহত্যা। দিলেন তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ডাক। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। হলেন তিনি বন্দি। চলল রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ তারই নেতৃত্বে। অনেক রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হলো স্বদেশ। বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা হিসেবে ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু তার স্বাধীন বাংলাদেশে। তার আজীবনের স্বপ্ন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ রবীন্দ্রসংগীতকে জাতীয় সংগীত করলেন তিনি। শুরু হলো দেশ গড়ার এক অসাধারণ পথযাত্রা। দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তিনি গড়ে তুলছিলেন তার স্বপ্নের বাংলাদেশকে। ভগ্ন অর্থনীতি, বিশেষ করে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, নতুন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইউজিসি কর্মকমিশনসহ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়া, সংবিধান লেখা, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, প্রশাসনের নানা নিয়মনীতি প্রচলন করার নানামুখী কর্ম উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। তবে অস্থির তরুণ সমাজের অসহিষ্ণুতা, পাকিস্তানপন্থি সামাজিক ও রাজনৈতিক অপশক্তির তৎপরতা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে তিনি সামনের দিকেই এগোচ্ছিলেন। মার্কিন ষড়যন্ত্রের কারণে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় তাকে বড় বেগ পেতে হয়েছে। সে কারণেই কৃষির উন্নয়নে তিনি ছিলেন আপসহীন। বৈরী প্রকৃতি ও নানামুখী দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও পঁচাত্তরে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা সত্যিও হয়েছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে এই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ দেয়নি। তাই মধ্য-আগস্টে এলো আচমকা এই কাপুরুষোচিত আক্রমণ। বাংলাদেশের হৃদয় এভাবেই খান খান হয়ে গেল। ধানম-ির বত্রিশ নম্বরের ওই সিঁড়ি বেয়ে পবিত্র রক্ত বয়ে গেল বঙ্গোপসাগরে। যাওয়ার পথে আমাদের অনুর্বর জমিকে উর্বর করে গেল তার রক্ত। চারদিক সবুজ সবুজময় হয়ে গেল তার রক্তের কারণেই। এভাবেই তার বিশাল ব্যক্তিত্বের কোমল ছায়ায় ঢেকে দেয় দুর্ভাগা বাংলাদেশকে।

এর পরের গল্প আমাদের সবারই জানা। নানা সংগ্রাম শেষে ফিরে এলেন তারই সুকন্যা। আবার হাল ধরলেন তার প্রিয় বাংলাদেশের। আর তাই তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর তিনি দিন দিনই আরও বড় হচ্ছেন। প্রবল হচ্ছেন। দ্যুতিময় হচ্ছেন। ওরা ‘৫৭০ সাবান’ মেখে ‘মার্কিন কাপড়ের’ কফিনে তাকে নিদারুণ অবহেলায় দাফন করেছিল টুঙ্গিপাড়ায়। বাইরের কাউকে আসতে দেয়নি তার জানাজায়। তারা কি জানত সাধারণ মানুষের পাশে শুইয়ে থেকেই তিনি তার সুপ্রিয় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এমন করে। এই ‘বাংলার নদী’, ‘চর্যাপদের গান’ বাংলার ‘সবুজ প্রান্তর’ তাকে অহর্নিশি জড়িয়ে আছে পরম মমতায়। নিশ্চিন্তে ঘুমাও পিতা। আমরা জেগে আছি তোমার প্রিয় বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অভিযাত্রাকে সফল করার জন্য। ভয় কি বাঙালির যখন তার সঙ্গে আছে বাংলাদেশের এমন এক বিশাল হৃদয়। যে হৃদয় থেকে নিরন্তর উৎসারিত হয় তারই উচ্চারিত অমোঘ কবিতা :

“আমি কী চাই? আমি চাই বাংলার মানুষ পেট ভরে খাক।

আমি কী চাই? আমার বাংলার বেকার কাজ পাক।

আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক।

আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসে খেলে বেড়াক।

আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক।”

(-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ০৯ মে ১৯৭২।)

ড. আতিউর রহমান : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

advertisement