advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

থেমে থেমে বৃষ্টি হলে বাড়বে ডেঙ্গুর প্রকোপ

দুলাল হোসেন
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

ঈদের ছুটি চলাকালীন গত রবিবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত চার দিনে সারাদেশে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তুলনামূলক হিসেবে রাজধানীর চেয়ে এর বাইরেই বেশি মানুষ ডেঙ্গুজ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের হিসাবে

এ সময়কালে রাজধানীতে ৩ হাজার ১৭৭ জন এবং এর বাইরের জেলাগুলোতে ৪ হাজার ৩৩০ ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৬ হাজার ৩৫১ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৩৮ হাজার ৪৪২ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন; ৭ হাজার ৮৬৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসা চলাকালে মারা গেছেন ৪০ ডেঙ্গু রোগী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি এ হিসাবের দ্বিগুণেরও বেশি।

আরও ৮ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ১১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আমির হোসেন (৬০) নামে এক ডেঙ্গু রোগী মারা যান। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জের দত্তপাড়ায়। একই দিন সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মনিরুল ইসলাম (৩৪) নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালমাটিতে, বাবার নাম খইম উদ্দিন। এদিন ভোরে রাজধানীর আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে ফাতেমা আক্তার সোনিয়া (২৭) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন মারা যান। তিনি হোমনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

ঈদের দিন অর্থাৎ গত সোমবার বিকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাসেল (৩২) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় ছিলেন রাজধানীর রমনা পার্কের পরিচ্ছন্নকর্মী। এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরশ (৪) নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার বাবার নাম কামরুজ্জামান, বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজাঙ্গালিয়া দাসপাড়া এলাকায়।

ঈদের পর দিন মঙ্গলবার রাতে পাবনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মাহফুজুর রহমান (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা, বাড়ি পাবনা সদরের চররামানন্দপুরে। সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল গতকাল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিন মাদারীপুরের শিবচরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হাজি আবদুল মজিদ (৭৫) মারা যান। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনি এক সপ্তাহ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। রাত ১টার দিক তার মৃত্যু হয়। একই দিন তানজিদ মোল্লা (৯) নামে এক শিশু ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। তার বাবার নাম জাহিদ মোল্লা। তিনি মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক।

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ঈদের দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যালোচনা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি কমেছে। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এটি বলার সময় এখনো আসেনি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর। মুষলধারে বৃষ্টি হলে মশা কমবে, ডেঙ্গুও কমবে। বৃষ্টি থেমে থেমে হলে এডিস মশা বাড়বে। আবার গরম আবহাওয়ার বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও মশা বাড়বে। তাতে ডেঙ্গুর প্রকোপও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে।

৯ দফা পরামর্শ

গত মঙ্গলবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঈদের পর রাজধানীতে ফেরা মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পরামর্শ দিয়েছে। বলা হয়েছে, এসব পরামর্শ ছোট ছোট হলেও খুবই জরুরি। এগুলো হচ্ছেÑ

গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি ঘরের মূল দরজা খুলে ঘরে ঢুকবেন এবং দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় ঘরের আনাচে-কানাচে, পর্দার পেছনে, খাটের নিচে মশার ওষুধ স্প্রে করবেন; কোনোভাবেই শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী মহিলাদের প্রথমে ঘরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। স্প্রে করার পর ঘর থেকে বেরিয়ে যাবেন ও আধাঘণ্টা অপেক্ষা করবেন; আধাঘণ্টা পর আবার ঘরে ঢুকে সব দরজা-জানালা খুলে দেবেন; কমোড ফ্ল্যাশ করবেন এবং বেসিনের ট্যাপ ছেড়ে দেবেন।

যাদের বাড়িতে মশা নিধনের স্প্রে নেই, তারাও সবাই একসঙ্গে ঘরে না ঢুকে প্রথমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি রুমে ঢুকে সব দরজা-জানালা খুলে দেবেন; সব ফ্যান ছেড়ে দেবেন; কমোড ফ্যাশ করবেন এবং বেসিনের ট্যাপ ছেড়ে দেবেন। এসব কাজ সম্পন্ন করার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করবেন।

বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে এডিস বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে এডিস মশা বেশি রয়েছে। এ ছাড়া গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ারে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। গত ১১ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরিপের তথ্য প্রকাশ করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে গত ৩১ জুলাই থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বস্তি এলাকা, মেট্রোরেল প্রকল্প, পুলিশলাইনস, হাসপাতালসহ ১৪টি এলাকায় কীটতত্ত্ববিদের ৪টি দল এই জরিপকার্য পরিচালনা করে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২০০ বেডের নতুন ওয়ার্ড চালু

ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লে তা সামাল দিতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে নতুন ইউনিট চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২০০ শয্যার নতুন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে গত ১১ আগস্ট।

advertisement