advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাসপাতালেই হলো ওদের ঈদ

রেজাউল রেজা
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০২:১২
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ঈদ মানেই আনন্দ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠা। কিন্তু এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মাঝে ছিল না সেই ছোঁয়া। হাসপাতালের চার দেয়াল আর মশারির মধ্যেই তাদের নিরানন্দময় কেটেছে দিনটি। রোগীদের সঙ্গে পরিবারেরও মাটি হয়েছে এবারের ঈদ।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের দুই নম্বর ভবনে ভর্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অসংখ্য রোগী। স্ত্রী সাবিনা আক্তারের পাশে বিষণœ মনে বসে রয়েছেন মো. আল আমিন। কোলে ঘুমিয়ে তাদের তিন বছরের ছোট্ট শিশু সাব্বির।

প্রতিবছর গ্রামে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেই কোরবানির ঈদ করেন রিকশাচালক মো. আল আমিন। কিন্তু এবার তা হয়ে ওঠেনি তিন সদস্যের ছোট্ট পরিবারটির। আল আমিন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমার স্ত্রী জ্বরে ভুগতেছিল। ঈদের আগের দিন আমরা জানতে পারি যে, ওর ডেঙ্গু হইছে। এর পর থেকে আমরা এ হাসপাতালেই আছি। ছোট্ট এ পোলাডারে কোলে নিয়াই দৌড়াদৌড়ি করি।’ রামপুরা এলাকার বাসিন্দা সহজ-সরল এ মানুষটি আরও বললেন, ‘ঈদের আনন্দের চেয়ে স্ত্রীর সুস্থতা আগে। আমার স্ত্রীর কিছু হইলে মাসুম এই পোলাডা নিয়া কই যামু বলেন। হাসপাতালে একা মানুষ আমিÑ টেরই পাই নাই, কখন ঈদ আইলো আর কখন গেলো। ঈদ লাগবো না, এখন একটাই দোয়া- অয় যেন সুস্থ হইয়া যায়।’

একই হাসপাতালের সাত তলায় চিকিৎসাধীন মো. সাজু মিয়া। রক্ত পরীক্ষায় তারও ডেঙ্গু ধরা পড়ে ঈদের আগের দিন রাতে। পেশায় আনসার সদস্য সাজু মিয়া কাজ করেন ফার্মগেটের গ্রিনরোড সুপার মার্কেটসংলগ্ন জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখায়। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে একাই বাস করেন। হঠাৎ তার ডেঙ্গুজ্বরের সংবাদ পেয়ে ঈদের সব আয়োজন ফেলে গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে ছুটে এসেছে তার পরিবার-পরিজন। ফলে ঈদ করা হয়নি এ পরিবারটিরও। সাজুর ছোট্ট মেয়ে সাদিয়া জানাল, ঈদ লাগবে না তার। বাবা ভালো হলেই সে খুশি। প্রিয় বাবাকে বাড়ি নিয়ে যেতেই নাকি সে ঢাকায় এসেছে।

তার পরও ঈদ বলে কথা। পরিস্থিতি যাই হোক, ঈদের আনন্দের একটুখানি পরশ দিতে প্রিয়জনদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। পায়েস, সেমাইয়ের পাশাপাশি অনেকেই বাড়ি থেকে এনেছেন পছন্দের খাবার। এ ছাড়া বিশেষ দিনকে ঘিরে হাসপাতাল থেকেও ছিল ভালো খাবারের আয়োজন।

ঢামেক নতুন ভবনের সাত তলায় ভর্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রিয়াজুল ইসলাম ও তার পরিবারেরও ঈদ কেটেছে হাসপাতালেই। তবু নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে ছেলের জন্য পছন্দের খাবার নিয়ে এসেছেন বৃদ্ধা মা ফরিদা বানু। তিনি বলেন, ‘বাড়ির বাইরে কোনোদিন আমরা ঈদ করি নাই। আজ ছেলের জন্য প্রথম হাসপাতালে ঈদ করলাম। ওর অবস্থা এখন কিছুটা ভালোর দিকে। তাই ঈদে ওর পছন্দের কিছু খাবার এনেছি। দোয়া কইরেন জলদি যেন বাড়ি যাইতে পারি আমরা।’

এভাবেই হাজারো রোগীর এবার কোরবানির ঈদ কেটেছে হাসপাতালের বিছানায় আর মেঝেতে শুয়ে। তবে হতভাগা এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশাপাশি হাসপাতালে ঈদ কাটিয়েছেন ডাক্তার ও নার্সরাও। ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঈদের ছুটিছাঁটা সব বাদ দিয়ে দিনরাত নিয়োজিত ছিলেন রোগীর সেবায়। ঈদের সময় তাদের পাশে পেয়ে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেক রোগী ও স্বজনরা।

advertisement