advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রাণ ফেরেনি সচিবালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

ঈদুল আজহা-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস ছিল গতকাল বুধবার। প্রশাসনের হৃৎপি- বাংলাদেশ সচিবালয় এ দিন ছিল নিষ্প্রাণ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি খুবই কম। যারা কাজে যোগ দিয়েছেন তারা সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেই সময় কাটিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি থাকায় অনেকে গতকাল বুধবার ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। ফলে আগামী রবিবার থেকেই মূলত সচিবালয় তার পুরনো চেহারায় ফিরবে।

ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস হওয়ায়

গতকাল সচিবালয়ের বারান্দা, সিঁড়ি, লিফটÑ সর্বত্রই চলে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়। একে অপরকে দেখামাত্রই বুকে জড়িয়ে কোলাকুলি। ভেদাভেদ ছিল না কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। তবে লিফটগুলোর সামনে খুব বেশি ভিড় দেখা যায়নি। ছিল না সচিবালয়ে আসা দর্শনার্থীদেরও ভিড়।

কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটিসহ প্রথমে পাঁচ দিন ও আজ বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি। এর পর আরও দুদিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় অনেকেই বুধবার (১৪ আগস্ট) ছুটি নিয়েছেন। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মসূচি থাকায় ও ডেঙ্গুর কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেননি।

এদিকে প্রথম কর্মদিবসে গতকাল নিজ দপ্তরে তাৎক্ষণিক প্রেসব্রিফিং করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া নিজ নিজ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

ব্যাংকেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি কম

ঈদুল আজহার টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি শেষে গতকাল খুলেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল কম। যারা এসেছিলেন, কাজের চাপ কম থাকায় গল্প আর ঈদের কুশল বিনিময় করেই তাদের দিন পার করতে দেখা গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস। শুক্র এবং শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই গতকালের দিনটিতে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এ কারণেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। আগামী রবিবার থেকে আবার ব্যাংকগুলো কর্মচঞ্চল হবে।

মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, সদা কর্মচঞ্চল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস অনেকটাই ফাঁকা। যারা ছুটি নেননি তারা কোনো রকমে এসে হাজিরা দিয়েই অফিস ছেড়েছেন। অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা ছিলেন, যারা একে অন্যের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত। এর মধ্যেই দুই একজন গ্রাহকসেবা নিতে এসে অস্থিতিকর অবস্থার মধ্যে পড়েন।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর চিনিশিল্প ভবনে সোনালী ব্যাংকের দিলকুশা কর্পোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সব চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা অফিস করছেন। একই চিত্র ওই এলাকার অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও। গ্রাহকদের উপস্থিতিও নেই বললেই চলে। হাতেগোনা দুই একজন গ্রাহক এলেও তারা কাক্সিক্ষত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

মতিঝিল সোনালী ব্যাংক লোকাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস। নগদ টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন আমানতের মুনাফা তুলতে অনেক গ্রাহক এসেছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বড় ধরনের কোনো লেনদেন হচ্ছে না। ছোট ছোট লেনদেন হচ্ছে।

এ দিকে ব্যাংক খুললেও গতকাল শেয়ারবাজারে লেনদেন ছিল বন্ধ। আগামী ১৮ আগস্ট শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।

advertisement