advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চার জেলায় পৃথক সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৭

আমাদের সময় ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চার জেলায় পৃথক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলেসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ২, সুনামগঞ্জের ছাতকে ১ ও মাগুরায় ১ জন নিহত হন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের কাঠাল ডাংরী গ্রামে জমির বিরোধে গতকাল সকালে দুই পরিবারের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন। নিহতরা হলেনÑ হাসিম উদ্দিন (৬০), তার ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩০) এবং ভাতিজা আজিজুল হক (৩৫)।

গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলেরা বছরখানেক আগে বাড়ির পাশে একটি পোলট্রি ফার্ম স্থাপন করে। ফার্মের দুর্গন্ধে রাতে ঘুমের অসুবিধা হয় বলে অভিযোগ করে আসছিলেন হাসিম উদ্দিনের বড় ভাই আবদুর রাশিদের ছেলেরা। এ নিয়ে আড়াই মাস আগে রাশিদের ছেলেরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির আপস মীমাংসার জন্য প্রবাসী হারুনের উদ্যোগে এলাকার লোকজন গতকাল সকালে এক সালিশ আয়োজন করে। সালিশে বসার আগে হাসিম উদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম ও আবদুর রাশিদের ছেলে আজিবুল বাগবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে আবদুর রাশিদের অন্য ছেলেরা অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জহিরুল ইসলাম (১৮) নিহত হন। আহত হন হাসিম উদ্দিন (৬৫), তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম (৩০), খাইরুল ইসলাম (১৭), মেয়ে রোকসানা (২০) ও পুত্রবধূ পপি (২৫) এবং আবদুর রাশিদের ছেলে আজিবুল (৩০)। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হাসিম উদ্দিন ও আজিবুল মারা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি ও জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ আবিদ হোসেন।

এদিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শরীফ (৩২) ও ফোরকান (২৭) নামে দুজন নিহত হন। এ ছাড়া ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন। তাদের মধ্যে শাহ জামাল (৩৪) নামে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। নিহত শরীফ শ্যামপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে ও মো. ফোরকান মিয়া একই গ্রামের লাহুত আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়, শ্যামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. বাক্কার মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের ফারুক মিয়ার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ধীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গতকাল সকালে বাক্কার মিয়ার ছোট ভাই মোল্লা মিয়া ফারুক মিয়ার বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় একা পেয়ে তাকে মারপিট করেন ফারুক মিয়ার লোকজন। খবর পেয়ে বাক্কা মিয়ার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে ফারুক মিয়ার লোকজন বন্দুক দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে ফোরকান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শরীফ। বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়া ছাতকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষে ছুরিকাঘাতে দুদু মিয়া (৫০) নামে এক কৃষক নিহত হন। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে এ হত্যাকা- ঘটে। দুদু মিয়া মোহনপুর গ্রামের মৃত আলতাব আলীর পুত্র।

একখ- ফসলি জমি নিয়ে দুদু মিয়ার সঙ্গে মেহানপুর গ্রামের মছদ্দর আলীর পুত্র জয়নাল মিয়ার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে দুদু মিয়া ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে জয়নাল মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে দুদু মিয়া গুরুতর আহত হয়। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

মাগুরা সদর উপজেলার সিংহডাঙ্গা গ্রামে গতকাল বিকালে সংঘর্ষে কবির হোসেন মীর (৫৫) নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন। কবির হোসেন একজন কৃষক। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, সমাজিক দলাদলি নিয়ে গ্রামের বিল্লাল শেখের সঙ্গে প্রতিপক্ষ ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ মীর গ্রুপের দন্দ্ব চলছিল। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে খোরশেদ মীরের চাচা আবেদ মীরের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে কথা কাটাকাটির জের ধরে বিল্লাল শেখ অতর্কিতে হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ কবির হোসেন মীরকে কুপিয়ে জখম করে। সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

advertisement