advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লাখ লাখ চামড়া ভাগাড়ে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৮
advertisement

‘প্রতিবছর আমাদের গলিতে কোরবানির পশুর চামড়ার জন্য হয় মারামারি। যদিও আমার চামড়া নিয়ে কেউ সেটা করার সাহস পায়নি। কাজ সেরে সন্ধ্যায় চৌমুহনী গিয়ে বিক্রি করতাম। এবারও গিয়েছিলাম। কিন্তু চামড়ার দাম ১০০ টাকা শুনে অপমান বোধ করলাম। কাছেই শফি সওদাগর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেন। তিনি ৩০০ টাকা দিয়ে বললেনÑ অনেক কষ্ট করে রিকশা নিয়ে এসেছেন দেখে দিলাম। তবে কোরবানির পশুর চামড়ার পুরো বাজারে খোঁজ নিয়ে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবানই মনে করি। কারণ হাজার হাজার পশুর চামড়া বিক্রিই হয়নি’, বলছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী জুলফিকার মান্নান।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সফিকুল মন্নান সিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, ‘সারা শহর বিকালের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর সন্ধ্যায় শুনি আতুরার ডিপো এলাকায় সড়কের ওপর চামড়ার স্তূপ জমে আছে। কেউ চামড়া কিনছে না। তখন ৩২টি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে আমরা কেবল টেনারি এলাকা থেকেই একলাখ চামড়া সরাই। তা ছাড়া সারাদিন এবং পরের দিন ডাস্টবিনগুলো থেকেও অসংখ্য চামড়া সরাতে হয়। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। নতুন অভিজ্ঞতা চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্যও।’

বৃহত্তর কাঁচাচামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের সরদার আমাদের সময়কে বলেন, ‘টেনারি শিল্পের মালিকদের কাছ থেকে আমরা ৩০ কোটি টাকা পাই। তারা আমাদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এ বছর চামড়া কিনতে পারিনি। একটি চামড়া ১০০ টাকায় কিনলেও সেটি লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে ৪৫০ টাকা খরচ হয়। আর টেনারি মালিকরা সেই চামড়া কিনতে চান ১০০ টাকায়। ফলে অর্ধেক আড়তদারই চামড়া কিনেননি। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেছেন। পরে সিটি করপোরেশনের লোক এসে সেগুলো ভাগাড়ে ফেলে দেয়।’

চামড়া আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর শরীর থেকে চামড়া আলাদা করার ১০ ঘণ্টার মধ্যেই লবণ দিয়ে তা প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। না হলে সেটি পচা চামড়া হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের চামড়াগুলোই রাস্তার পাশে স্তূপ হয়ে পড়েছিল। শহরের ভেতরের রাস্তার পাশের চামড়াগুলো সিটি করপোরেশন দ্রুত সরিয়ে ফেললেও বাইরে রাস্তার পাশে ঠিকই স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমনকি গতকাল বুধবার বিকালেও নগরীর টোল রোডের একাধিক স্থানে প্রচুর কাঁচাচামড়া পড়েছিল।

নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা মাঠে কয়েক হাজার চামড়া আনা হলেও বিক্রি হয়নি। সেগুলো মাঠেই ফেলে গেছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। হাটহাজারী উপজেলার সফিনগর তাহেরিয়া ছাবেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার প্রায় ৮০০ চামড়া আনা হয়েছিল বিক্রির জন্য। কিন্তু তা ফেলে রেখেই চলে যান বলে জানান মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘চামড়া বিক্রি হয়নি, উল্টো শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও পরিবহনে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’

advertisement