advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাভারে চামড়া নিয়ে তেলেসমাতি

জাহিদুর রহমান, সাভার
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৮
advertisement

গাজীপুর থেকে দেড়শ গরুর চামড়া একটি মিনি ট্রাকে করে নিয়ে আমিনবাজারে এসেছিলেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হুকুম আলী (৫৫)। বরাবর তিনি এখানেই আসতেন। কারণ ক্ষতি নয়, লাভের হিসাব কষেই বাড়ি ফিরতেন। এবারো এসেছেন। তবে বিক্রি দূরের কথা, হতাশা আর কান্নাকে পুঁজি করে ফিরেছেন তিনি। যে চামড়া কিনেছিলেন ছয়শ দিয়ে সেটি বিক্রি করতে হয়েছে ১২০ টাকায়! এভাবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খুইয়েছেন এবার।

শুধু হুকুম আলী একা নন, তার মতো অসংখ্য ব্যবসায়ীর সর্বস্বান্ত হওয়ার সাক্ষী সাভারের আমিনবাজার। কেউ আবার চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কের পাশে ফেলেই চলে গেছেন। ‘চামড়া শিল্প নিয়ে এ গভীর সংকট গত ৫৬ বছরে দেখিনি’Ñ বলছিলেন আমিনবাজারের কাঁচা চামড়ার আড়তদার মোহাম্মদ আলী।

সরকার আগেই দর বেঁধে দিয়েছিল। সেই দরের কিছুটা কমেই চামড়া কিনে যারা আড়তে এনেছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে ছিল কেবল হাহাকার। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতেও চোখে পড়ে অভিন্ন চিত্র। নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনা তো দূরের কথা, এর অর্ধেক দামেও অনীহা সেখানকার মালিকদের। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে আমিনবাজারের সড়কের পাশেই তা ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘মূলত আমাদের চাহিদা কম বলে এবার চামড়া তেমন কিনিনি।’

কোরবানির ঈদকে ঘিরে দেশের কাঁচা চামড়ার অন্যতম বৃহৎ আড়ত আমিনবাজারে সপ্তাহ ধরে হাঁকডাক থাকে। সরগরম এ বাজারে এখন সুনশান নীরবতা। ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ফেলে যাওয়া চামড়া পচে-গলে স্থানীয় পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। উৎকট দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। একই অবস্থা দেখা যায় সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীতে। অধিকাংশ কারখানায়ই বন্ধ। যেগুলো খোলা সেখানেও কাজ চলছে পুরনো চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে। একাধিক কারখানার মালিক জানান, টেকসই পরিবেশ অনুশীলনের নির্দেশনা বজায় রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ চামড়া শিল্পনগরীতে প্রতিটি কারখানায় নিজস্ব ইটিপি স্থাপনসহ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন না এখানকার উদ্যোক্তারা। ফলে চাহিদাও কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এ শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

advertisement