advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

১৫ আগস্টের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ভালো নেই

মুহম্মদ আকবর
১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০২:৪৬
advertisement

মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা তখনো তাদের চোখে-মুখে, মনে-মননে। যুদ্ধের দখল শরীরকে কাবু করলেও মন তেজোদীপ্ত। অন্যায় ও অসত্যকে মোকাবিলা করার শক্তি কমেনি এতটুক। প্রমাণ করেন আবারও। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে আবারও হাত মুঠো করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকরা।

প্রতিবাদে নামেন আরও কতশত তরুণ ও যুবা। পিতা হত্যার প্রতিশোধের নেশায় শুরু হয় প্রতিরোধ। নিজেকে এবং দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার দৃপ্ত শপথে আবারও শুরু হয় ঘরছাড়া ও প্রিয়জন ছাড়ার গল্প। এমনি কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়, যারা মুক্তিযুদ্ধও করেছেন আবার ১৫ আগস্টের প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। তারা এখন বড্ড ক্লান্ত। দেহ আর তেমন সাহায্য করে না। বার্ধক্যজনিত সমস্যার পাশাপাশি আছে পারিবারিক অনটন। তাই অন্তহীন ক্লান্তি নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফেলে এখন কথা বলেন তারা। বলতে কষ্ট হয়, তবু কথা যেন শেষ হয় না তাদের। বেশিরভাগই জমানো ক্ষোভ আর অভিমান। নিজের শরীরটার দিকে তাকান, দেখান অন্যদেরও। বলেন, কত অত্যাচর এই শরীরের ওপর দিয়ে গেছে। তবু আছেন আগের মতোই। রোগ-শোক ছাড়া কোথাও কোনো আপস নেই।

১৫ আগস্টের প্রতিরোধ যোদ্ধা স্বপন চন্দ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অনটন ও শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। তিন বছর আগে ধরা পড়ে মরণব্যাধী ক্যানসার। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সময়ের প্রয়োজনে যুদ্ধে নেমেছিলেন তিনি অথচ তার প্রয়োজনে কেউ পাশে নেই বলে প্রচ- ক্ষোভ। শুধু তিনিই একা নন, আরও বহু প্রতিরোধ যোদ্ধার শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসারসহ নানা রোগ-শোক। খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছেন তারা। অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় ৩৯ প্রতিরোধ যোদ্ধার করুণ মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত। মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন আরও অর্ধশতাধিক প্রতিরোধ যোদ্ধা।

আলী উসমান, এরকম আলী হোসেন, সুকেশ সরকার, অশুক তালুকদারসহ শত শত প্রতিরোধ যোদ্ধা আজ ভালো নেই। ভালো নেই তাদের পরিবারের লোকজনও। স্ত্রী-সন্তানদের ঠিকমতো খাওয়া-পড়া ও পড়ালেখার খরচ জোগাতেও তারা অক্ষম। প্রতিরোধ যোদ্ধা আলী উসমান বলেন, ‘কারও কাছ থেকে বিশেষ কিছু পাওয়ার আশায় আমরা প্রতিরোধ যুদ্ধ করিনি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমাদের আদর্শের পিতা। তার নির্মম হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সন্তান হিসেবে যে দায়িত্ব ছিল, সেটুকুই শুধু পালনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেই দুর্বিষহ সময়ে যাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাসের পর মাস প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়েছি, আজ তাদের ধুঁকে ধুঁকে মারা যাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। সে কারণেই দ্বারে দ্বারে সাহায্য প্রার্থনা করি।’

advertisement