advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কন্যার হাতে পিতার আরব্ধ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে

১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০৯
advertisement

আজ জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চুয়াল্লিশতম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনের মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর একদল ষড়যন্ত্রকারী সদস্য ৩২ নম্বর ধানম-ির বাড়িতে এই বিশাল হৃদয়ের মহৎ বাঙালি নেতাকে সপরিবারে হত্যা করে। তাকে হত্যাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে তার চেতনা ও আদর্শে গড়ে উঠতে থাকা স্বাধীন বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানি ধারায় ফেরানোই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তারা সেদিন সাময়িকভাবে সফল হলেও স্থায়ী সাফল্য তাদের আসেনি। তার কারণ বঙ্গবন্ধু কেবল দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, একজন সাধারণ নেতাও ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই জাতির রূপকার, তাদের জাগিয়ে তুলেছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন, এমনকি ভয়ভীতি দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে তাদের বীরের জাতিতে রূপান্তর করেছেন। এই রূপান্তরিত জাতি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করেছে, নিজেদের মুক্তির পথ রচনা করেছে।

১৯৭১-এ বিজয়ী জাতির একটি পরাজিত প্রতিপক্ষ ছিল। তারা এদেশে সংখ্যায় কম হলেও তাদের পাশে ছিল দখলদার দেশ পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবসহ আরও কিছু দেশ। এদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের ফল বঙ্গবন্ধু, শেখ মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত হত্যাকা-, নভেম্বরে জেলের অভ্যন্তরে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানÑ এই চার জাতীয় নেতার নির্মম হত্যাযজ্ঞ। স্বাধীনতার স্থপতি এবং তার মূল সহযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের রূপকারদের আকস্মিক হত্যাকা-ে দেশ সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল। কিছুকালের জন্য জেনারেল জিয়া ও এরশাদ এবং বেগম জিয়ার শাসনামলে প্রায় মিনি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন দেশ এক অবরুদ্ধ পরিবেশে দিশাহীন হয়ে পড়েছিল।

তবে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় পঁচাত্তরের সেই ভয়াল কালরাতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা এবং সাহসী নেতৃত্বের ফলে শেষ পর্যন্ত আবার বাংলাদেশ তার লক্ষ্যপথ খুঁজে পেয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে তারই সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিরাট মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের নতুনতর সংকট জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয় বা ইসলামি জঙ্গিবাদের মতো ইস্যুগুলো তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে সামলে নিচ্ছেন। আবার বাজার অর্থনীতি বিশ্বায়নের নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায়ও তিনি সফল হতে চলেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বাণিজ্যসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পিতার আরব্ধ কাজ কন্যার হাতে পূরণ হতে চলেছে। ইতিহাসের ভয়াবহ ট্র্যাজেডিও আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার সফল নেতৃত্বে নতুনতর বিজয়গাথা রচনার পথে রয়েছে। তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর আত্মদান বৃথা যায়নি। তার স্বপ্ন ও সংগ্রাম মরুপথে হারিয়ে যায়নি। বাংলাদেশ তার কন্যার হাত ধরে আবার জেগে উঠেছে, উন্নয়ন ও সাফল্যের পথে চলেছে। উন্নত সফল বাংলাদেশই হবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি জাতির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধার্ঘ্য।

advertisement