advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচার আশানুরূপ হয়নি

মুহম্মদ আকবর
২১ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ০০:৩৪
advertisement

‘মানুষের দোয়ায় ও আল্লাহর রহমতে এখন ভালো আছি। গ্রেনেডের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর আমার খাদ্যনালির ৯ ইঞ্চি কেটে ফেলা হয়। শরীরে এখনো স্পিøন্টারের যাতনা থাকলেও চলাফেরা করতে পারছি। এ জন্য স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করি। কিন্তু সেদিনের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনো দুই চোখ বন্ধ হয়ে আসে।’

গতকাল মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন।

এসএম কামাল বলেন, ‘এই হামলা যে শুধু আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য করা হয়, তা নয়। ১৫ আগস্টের কুশীলবরা এ হামলার মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রশূন্য করতে চেয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘এই হামলার বিচার হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি বিচার আমাদের আশানুরূপ হয়নি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই হামলার মূল হোতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালত সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করবেন।’

ওই দিনের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘ভাবা যায়! এত বড় হামলা হলো অথচ আহতদের সহায়তা করার কেউ নেই! অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখেও যখন আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতারা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলেন, তখন নানা অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসা দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই বলে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের শত শত আহত নেতাকর্মীকে। এতেই স্পষ্ট হয়, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে? কী উদ্দেশ্যে ঘটিয়েছে।’

সেদিনের ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে এসএম কামাল বলেন, ‘তৎকালীন চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল মুক্তাঙ্গনে। কিন্তু সেখানে অনুমতি না পাওয়ায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপরে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে সমাবেশ চলছিল। সবাই বক্তব্য রাখার পর আপা (শেখ হাসিনা) যখন বক্তব্য শেষ করলেন, তখনই একের পর এক গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরই মধ্যে আমিও গ্রেনেডের আঘাতের শিকার হই। আমাকে এই অবস্থা থেকে আপার ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার আলী হোসেন, শাহজাহানসহ কয়েকজন প্রথমে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে ডেল্টা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা আমার খাদ্যনালির ৯ ইঞ্চি কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এর পর আপা আমাকে ভারত পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।’

advertisement