advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৫৪ নদীর পানিবণ্টনে গ্রহণযোগ্য বিধি খুঁজছে দুই দেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২১ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ০১:৩১
advertisement

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান সম্পর্কে ড. জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের একটি অবস্থান আছে, আপনারা সবাই তা জানেন। এ অবস্থানে আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি আছে এবং এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন নেই। আমাদের ৫৪ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিধি খুঁজে পেতে অগ্রগতির অপেক্ষায় আছি আমরা। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ড. জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের নিজেদের ভূমি রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের জাতীয় স্বার্থের বিষয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আমরা একমত। বাংলাদেশ থেকে এ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে এবং রাখাইন রাজ্যের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।

ড. জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার প্রথম ঢাকা সফর। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব; প্রতিবেশী দেশগুলোও যে পাশাপাশি একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে তার উদাহরণ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেল হিসেবে এ অংশীদারত্বকে টিকিয়ে রাখতে চান। আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গর্ব বোধ করি। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছি।

সম্পর্কের বর্তমান সময়কে ‘সোনালি অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অংশীদারত্ব যদি বৃদ্ধি পায় তা হলে দুই দেশই পারস্পরিকভাবে উপকৃত হবে। দুই দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন ইতিহাস রয়েছে এবং তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

অপরাধ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে উন্নত অংশীদারত্ব দুদেশের জনগণের জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরাসরি উপকার বয়ে আনবে বলেও উল্লেখ করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, এ খাতের সব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে দুদেশের অংশীদারত্বকে বর্ধিত করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে অংশীদারত্বসহ আমাদের জ্বালানি ভাগাভাগির অনেক প্রকল্প আছে, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। বাণিজ্য নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিকশিত ও পরিপক্ব হওয়ায় তারা অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পরবর্তী স্তরে পৌঁছাতে প্রস্তুত।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুুল মোমেন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি। বিগত কয়েক বছরে দুদেশের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে তার বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে কি কি বিষয় আলোচনা হবে, তার কিছুটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে আজ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত হত্যা নিয়েও আমরা কথা বলেছি। আমরা বলেছি, সীমান্তে এখনো মানুষ মরছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি যেন না হয় সে বিষয়ে দেখবেন। তিস্তা চুক্তি বিষয়ে বলেছেন, ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে বিকালে গনভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সাক্ষাৎকালে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র তিনি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়ায় জয়শঙ্করকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাতে দুদেশের পারস্পরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এস জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান।

এর আগে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ড. জয়শঙ্কর। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানান। এ সময় জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী মাশুরা হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আজ সকালে এস জয়শঙ্করের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

 

advertisement