advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাটহাজারীতে সক্রিয় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও এনআইডি তৈরি চক্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২১ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ০০:৩৪
advertisement

কেঁচো খুঁড়তে রীতিমতো সাপ বের হওয়ার অবস্থা। সম্প্রতি পুলিশ এক নারীর পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে আরেক রোহিঙ্গা নারীর নামে তৈরি জাতীয় পারিচয়পত্রের তথ্য পেয়েছে। রমজান বিবি নামে ওই রোহিঙ্গা নারী লাকী নাম নিয়ে ও ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাতীয় পরিচয়পত্র। এই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যভা-ারে সংরক্ষিত আছে। এ ঘটনায় রমজান বিবি ও তাকে সহযোগিতার অভিযোগে আজিজুর রহমান নামের এক বাঙালি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছেন হাটহাজারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম। রমজান বিবি ও আজিজকে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমজান বিবি পাসপোর্ট আবেদন ফরমে নিজের নাম দিয়েছেন লাকী। ঠিকানা লিখেছেন হাটহাজারী উপজেলার মীর্জাপুর ইউনিয়নের ওবায়দুল্লাহ নগর। বাবার নাম আবদুর সালাম, মা শাহেদা বেগম। আজিজের ঠিকানা, বাবা-মায়ের নামও একই। পুলিশের ধারণা, হাটহাজারিতে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করছে। আর তাদের অর্থ দিচ্ছে সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গারা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে লাকী নামের কাউকে ওই ঠিকানায় না পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হয়। এর পর গত রবিবার লাকী তার স্মার্ট কার্ড তোলার জন্য কথিত ভাই আজিজের সঙ্গে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে সেখানে তার হাতের পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। এর পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে খোঁজ করে দেখা যায় লাকীর পরিচয়পত্রের তথ্য সেখানে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু তথ্য মিলিয়ে বোঝা গেছে, সেটি তৈরি করা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাটহাজারীর মীর্জাপুর ইউনিয়নে আবদুর সালামের এক মেয়ের নাম ছিল লাকী।

তিনি মারা যাওয়ার পর রোহিঙ্গা নারী রমজান বিবি আবদুর সালামকে বাবা ডেকে পালক মেয়ে সাজেন। তার পর এক যুবককে বিয়ে করে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন। এরই মধ্যে লাকী নিজের একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে ফেলেন।

পুলিশ জানায়, টেকনাফের হ্নীলা উপজেলার মুচলিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রমজান বিবির সঙ্গে পাঁচ বছর আগে নজির আহম্মদ নামের এক লোকের পরিচয় হয়। পরে নজির সৌদি আরব চলে যান। এই নজিরের পরামর্শেই আজিজের মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরি করেন রমজান বিবি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ধারণা করছি হাটহাজারীতে একটি চক্র রয়েছে যারা রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করছে। তাদের অর্থ সংস্থান করছে সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গারা। ২০১৪ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরিরের চার সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিল রোহিঙ্গা। আমরা তদন্তে দেখতে পাই, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লোকজনকে সৌদি আরব থেকে কিছু রোহিঙ্গা আর্থিকভাবে সাহায্য করে। আর ওই টাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরির ব্যবস্থা হয়।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর পরও কিছু অসাধু লোকের কারণে কোথাও কোথাও রোহিঙ্গারা ভোটার হয়ে থাকতে পারে। এ চক্রকে খুঁঁজে বের করতে হবে।

advertisement