advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ভারতের ৬ সেনা নিহত

২১ আগস্ট ২০১৯ ০১:০১
আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ০১:০১
advertisement

আজাদ কাশ্মীর সীমান্তে টাট্টাপানি এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক কর্মকর্তাসহ ভারতের ৬ সেনা নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানান।
জেনারেল আসিফ গফুরের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ‘ডন’ জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে হামলা চালায়। এতে পাকিস্তানের তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এর মধ্যে সাত বছরের এক শিশুও রয়েছে। এর জবাবে হামলা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে এ হামলায় এক কর্মকর্তাসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন; আহতও হয়েছেন অনেকে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি বাঙ্কার।
আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে পাকিস্তান : কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
ইসলামাবাদ। গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব আইনি দিক বিচার করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলসহ নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক সময়ে পদক্ষেপের বিরোধিতা করে এরই মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে ইসলামাবাদ ও বেইজিং।
হামলার সব প্রস্তুতি রয়েছে : ভারত সেনাপ্রধান
চিরবৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ফের যুদ্ধ-আবহ উসকে দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। তিনি জানিয়েছেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শুধু পাকিস্তানের বালাকোটই নয়, দেশটির বিরুদ্ধে পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। এমনকি পাকিস্তানের ভূখ-ে ঢুকে তাদের বড় ধরনের শিক্ষা দেওয়ার সব প্রস্তুতিই সেরে ফেলেছিল ভারতের সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে ভেবে রাখা হয়েছিল বিকল্প একাধিক পথও। মোট কথাÑ বালাকোট দিয়ে আকাশপথে হামলাও সেই বিকল্প ভাবনার মধ্যেই ছিল এবং তা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে চেয়েছিল তারা। গত সোমবার দিল্লিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিজেদের এ স্ট্যাটেজির কথা জানান বিপিন রাওয়াত।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানায়Ñ সোমবারের বৈঠকে জেনারেল বিপিন জানান, এখনো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হামলায় প্রস্তুত রয়েছেন ভারতের সেনারা। পাকিস্তান যদি স্থলে হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তবে ভারতও বসে থাকবে না। প্রয়োজনে ভারতের সেনারা পাকিস্তানের ভূখ-ে ঢুকেই তাদের বিরুদ্ধে লড়বে। এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপ-সেনাপ্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১৮ হাজার কোটি রুপির গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অস্ত্র মজুদ রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফের গাড়িবহরে হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়শ-ই-মোহাম্মদ। ওই ঘটনায় ৪০ সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারানোর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। ঘটনার ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালিয়ে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে ভারত। একই সঙ্গে এ হামলায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলেও দেশটির দাবি। এ হামলা কেন্দ্র করে পরদিনই দুই দেশের আকাশসীমায় পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ভারতীয় একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে এক পাইলট পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়েন। পরে অবশ্য কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তান ওই পাইলটকে দেশে ফেরত পাঠায়।
ভারতের সেনাপ্রধান জানান, বালাকোট সীমান্তে তাদের বিমান হামলার সময় প্রয়োজনে আরও অগ্রসর হওয়া যেত, যদি পাকিস্তানের তরফে খুব বড় রকমের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতো। তবে এতগুলো জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসে কার্যত নড়েচড়ে বসেছিল পাকিস্তান সরকার। তাই বালাকোটে হামলার পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবেনি তারা। ফলে ভারতও যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছে। তবে আবার তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুদ্ধে পিছপা হবে না ভারত। প্রয়োজনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াবে।

advertisement