advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভিভাবকহীন ২ বছর

বিনোদন প্রতিবেদক
২১ আগস্ট ২০১৯ ১৩:৪৯ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ১৩:৪৯
advertisement

অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সহকর্মীরা...

আলমগীর

একটা সময় ছিল উত্তম কুমার, দিলীপ কুমার হতে চাইতাম। তাদের ছবি দেখে দেখে তাদের মতো হওয়ার ইচ্ছে জাগতো। পরবর্তীতে যখন নিজেই নায়ক হয়ে চলচ্চিত্রে এলাম, পেয়ে বসলো নায়করাজ রাজ্জাক হওয়ার ইচ্ছে। আমি তখন থেকে আজও চেষ্টা করে যাচ্ছি তার মতো হওয়ার। ১৯৭২ সালে ‘আমার জন্মভূমি’ ছবির মাধ্যমে আমি সিনেমায় আসি। ওই ছবিতে রাজ্জাক-কবরী জুটিও ছিল। তখন থেকেই নায়করাজের প্রতি মুগ্ধতা আমার। রাজ্জাক ছিলেন আমার বড় ভাইয়ের মতো। উনার সঙ্গে আমার কত স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না।

সৈয়দ হাসান ইমাম

স্ত্রী-বাচ্চাকে নিয়ে ১৯৬৪ সালে রাজ্জাক কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসেন। এসে স্ট্রাগল করতে শুরু করেন। থিয়েটারে কাজ করার জন্য ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। তখনই আমার সঙ্গে পরিচয়। এরপর সে আবদুল জব্বারের ইকবাল ফিল্মসে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর জহির রায়হানের সঙ্গে দেখা করে সে। ‘বেহুলা’ ছবিতে লখিন্দরের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবি সুপারহিট হয়। রাজ্জাকের ক্যারিয়ার ঘুরে যায়। গুলশানের বাসায় প্রতি মাসে পার্টি হতো। আমরা সবাই সেখানে যেতাম। তিনি খুব বিনয়ী ছিলেন। এত বড় তারকা তবুও তার কোনো অহঙ্কার ছিল না।

ববিতা

রাজ্জাক ভাইয়ের মতো আমিও জহির রায়হানের চলচ্চিত্র দিয়ে ঢাকাই ছবির ক্যারিয়ার শুরু করি। প্রথমে তার সঙ্গে একটি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করার সুযোগ পাই। এরপর প্রায় ৪০টি ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। শুটিংয়ের কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে। আমার কাছে তিনি নায়ক ছিলেন না, তিনি ভাই ও অভিভাবক। তার সঙ্গে সম্পর্কটা পারিবারিক। এই পারিবারিক সম্পর্কটা যে শুধু আমার সঙ্গে তা কিন্তু নয়, রাজ্জাক ভাই এমন একজন মানুষ যার সঙ্গে আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রতিটি মানুষের সম্পর্ক ভালো। আমরা যারা সে সময় একসঙ্গে কাজ করতাম তারা সবাই পরিবারের মতো। আর রাজ্জাক ভাই ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। তার বাসায় গিয়ে কখনো মনে হয়নি যে, এটা নিজের বাসা নয়। রাজ্জাক ভাই আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন। দেখতে দেখতে দুই বছর পার হলো আমরা অভিভাবকহীন। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না তিনি নেই। তিনি থাকলে চলচ্চিত্রের এই দুরাবস্থা নিশ্চয় হতো না।

কবরী

আমরা কজন ঠিক করলাম ছবির প্রযোজক হব। ক্যামেরাম্যান বেবী ইসলাম, পরিচালক মিতা, নায়ক রাজ্জাক আর আমি নায়িকা। আরেকজন আলতাফ মাহমুদ (সঙ্গীত), কৌতুক অভিনেতা হাবা হাসমত। আমাদের সবারই সুনাম তখন তুঙ্গে। ‘ক, খ, গ, ঘ, ঙ’ ছবিটির প্রযোজনায় আমাদের সবার অংশীদারিত্ব সমান। আমি রাজি, সবাই রাজি। শুটিং করতে যাব চুয়াডাঙ্গায়। ওমা! হঠাৎ শুনি রাজ্জাক প্রযোজনার সঙ্গে থাকবেন না। আমার রাগ হয়েছিল! ইচ্ছে হচ্ছিল বলি ‘কবরীর মুখের দিকে চেয়ে রোমান্টিক কত সংলাপই না বলেছিলেন। অন্তত ওসব আবেগ ভরপুর দৃশ্যের কথা মনে করেই না হয় রাজি হতেন!’ এগুলো অভিমানের কথা। আসলে রাজ্জাক সাহেব চেয়েছিলেন আমরা সবাই বসে কেন কাজটার কথা বললাম না। পরে অভিনয় করেছিলেন। এখন যখন একা থাকি তখন মনে হয়, কত মান-অভিমানই না ছিল আমাদের মধ্যে। দিন শেষে সত্যিটা হলো- আমরা ভালো বন্ধু। আর বন্ধু না হলে, অভিনয় করতে করতে ভালোবাসা না হলে, সাধারণ মানুষের মনে ভালোবাসা তৈরি হবে কী করে? আমরা পেরেছিলাম, তাই তো যারা এসব সিনেমা দেখেছেন তারাও হয়ে যেতেন রাজ্জাক অথবা কবরী।

advertisement