advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তার দোষই বা কি, পর্যবেক্ষণ ফারুকীর

বিনোদন প্রতিবেদক
২১ আগস্ট ২০১৯ ১৬:০২ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯ ১৬:২০
advertisement

মিডিয়ার চলমান সংকট নিয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। আজ বুধাবার দুপুরে ফারুকী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেন। দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন-এর পাঠকদের জন্য তা হুবহু প্রকাশ করা হলো-   

‘সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ভূমিকাটা হচ্ছে এটা মানুষকে এক অন্তহীন হীনম্মন্যতার টোপে আটকে ফেলছে। আগে “আলাদা”, “ভিন্ন” হওয়ার মধ্যে মানুষ সার্থকতা খুঁজে পেত। এখন “আলাদা” হইতে মানুষ ইনসিকিউর ফিল করে। মানুষ এখন সেই বার্গার খাইতেই লাইন দিবে, যেটা সবাই খাচ্ছে। সেটা খাইয়া একটা সেলফি না দিতে পারলে, সে তার সোশ্যাল রিলাভেন্স হারাইয়া ফেলার আতঙ্কে থাকবে। এখন মানুষ সেই গানই শেয়ার দিবে, যেটা আরও তিরিশ মিলিয়ন লোকে শেয়ার দিছে। সেই সিনেমা দেখতেই হল ভাইঙ্গা ফেলবে, যেটা পত্রিকার রিপোর্টে ওপেনিং উইকেই হান্ড্রেড মিলিয়ন আয় করছে। তা সেই ছবি যতই স্টুপিড “গান্জারামন সর্দারন” হউক না কেন। কারণ সেই ছবির হল থেকে দেওয়া সেলফিটাই যে কেবল তার অস্তিত্বকে এনডোর্স করছে, দুনিয়াকে বলছে “আমিও আছি, আমিও ছিলাম, ভুলো না আমায়!”

নিজের কাজের প্রসঙ্গ টেনে ফারুকী আরও লিখেছেন, ‘কখনো দেখি নাই ওয়ারফেজ মমতাজের মতো বিক্রি হইতেছে না বইলা ওয়ারফেজ বা তার ফ্যানদের হীনম্মন্যতায় ভুগতে। কিন্তু এখন হইলে ভিউর লজ্জায় তাহাদের কাটা মাথা তাহারা কোথায় রাখিবে তার দিশা খুঁজিয়া পাইতো না। আমার ছবি কোনদিনও এক নম্বর ব্যবসাসফল ছবি হয় নাই, হইছে ডিপজল সাহেবের ছবি, তাতে আমি বিন্দুমাত্র হীনম্মন্যতায় ভুগছি বইলা তো মনে পড়ে না।’

নতুনদের প্রসঙ্গে টেনে এই নির্মাতা লিখেছেন, ‘আজকে নতুন ছেলেদের সঙ্গে কথা বললে দেখি, ভিউর চাপে তারা ম্রিয়মাণ! তারা নতুন ছবি বানানোর, নতুন সুর করার, নতুন কথা লিখার আগেই ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ খাবে তো? তার দোষই বা কি? তাকে সমর্থন দিয়ে আগাইতে সাহায্য করবে সেই ভোক্তা কই? যে ভোক্তা আলাদা হইয়া নতুন সুর, নতুন চিন্তা, নতুন কথাকে ছোট হইলেও একটা ধারায় পরিণত করার কথা সে নিজেই তো অস্তিত্বের সংকটে হংসমতো ধুঁকছে। স্রোতের মধ্যে হাঁসের মতো মাথাটা লুকাইয়া কোনো মতে অস্তিত্ব টিকাইয়া রাখার সংগ্রামে মানবজাতিকে নামাইয়া দিলো যে সোশ্যাল মিডিয়া, আমরা তার কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করিবো?’

advertisement