advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চীনের কাছে জিম্মি চামড়া খাত

গোলাম রাব্বানী
২২ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

উন্নত কর্মপরিবেশ ও বর্জ্য পরিশোধনাগার না থাকার কারণে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের ক্রেতারা সরাসরি চামড়া কিনছেন না। যার ফলে চিনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের মূল ক্রেতা হয়ে উঠেছেন। সুযোগ বুঝে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ট্যানারি মালিকদের অনেকটা জিম্মি করে ফেলেছেন। ক্রয়াদেশ দেওয়ার পরও নানা অজুহাতে ক্রয়াদেশ বাতিল এবং দাম কমানোর ঘটনা ঘটাচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশের চামড়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল জাপান। কিন্তু ২০০১ সালে এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট অবিলম্বে হাজারীবাগ থেকে কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও ট্যানারি মালিকদের নির্দেশ দেন। তখন থেকেই ইউরোপসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও জাপানের চামড়ার রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়া শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট সরকার সাভার চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। যা ২০০৫ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমানে চীনের ব্যবসায়ীরা প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৫৫ থেকে ৭০ সেন্ট দামে কিনছেন। ইউরোপ বা অন্যান্য উন্নত দেশে এই চামড়া অনায়াসে ১ ডলার থেকে ১ ডলার ২০ সেন্টে বিক্রি করতে পারা যায় বলে জানান ট্যানারি ব্যবসায়ীরা।

ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, বর্জ্য পরিশোধনাগারসহ (সিইটিপি) অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত না করেই ২০১৭ সালে অনেকটা জোর করে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানান্তরের কারণে সে সময় ক্রেতাদের সময়মতো চামড়া দেওয়া যায়নি। ফলে অনেক ক্রেতাই বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যান। শিল্পনগরের কর্মপরিবেশ উন্নত না হওয়ায় সেই ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনা চামড়াজাত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেটি আমাদের কাছ থেকে আদায় করতে চান চীনারা। আর ইউরোপীয় ক্রেতারা চীনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যই কিনছে। যে কারণে চীন ধীরে ধীরে জিম্মি করতে শুরু করেছে চামড়া খাতকে।

বৈশ্বিক হিসাবে চামড়ার বড় বাজারগুলোর মধ্যে ছিলÑ ইতালি, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, স্পেন, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ান। হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক এ বাজারের মাত্র ০.৫ ভাগ রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

advertisement