advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাণিজ্য ঘাটতি ১৫৪৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

কয়েক বছরজুড়ে প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছিল। ফলে অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আমদানি বাড়লেও বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে। পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের ঘাটতি কমে আসায় বাংলাদেশের বিদেশি লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের এ অবস্থা অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে (জুলাই ১৮-জুন ১৯) দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় ভালো হওয়ার কারণে মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে, যা চিন্তার বিষয়। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য কমলেও এর থেকে উত্তরণ হচ্ছে না। এখন এটি আরও কমাতে হলে রপ্তানি বাড়াতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছের আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৫ হাজার ৫৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি খাতে (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ইপিজেডসহ) বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে দেশে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৬৭৮ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এ খাতে আয় ছিল ৪৫৪ কোটি ডলার। বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ৮৭৪ কোটি ডলার।

গেল অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই সময় রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে যে পরিমাণ ঘাটতি হয়েছে, তা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাব ঋণাত্মক (-) রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এর পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৪৫০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিট বিনিয়োগ ২৫৪ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ আর নিট বিনিয়োাগ বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে এফডিআই বাড়লেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। গেল অর্থবছরে শেয়ারবাজারে মাত্র ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা তার আগের অর্থবছরে একই সময় ছিল ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

advertisement