advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুরনো ব্রহ্মপুত্রের নাব্য ফেরানোর মহাপরিকল্পনা

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ
২৪ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৯ ০১:১৪
advertisement

এককালের খরস্রোতা পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফেরানোর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চর নিলক্ষীয় এলাকায় আজ শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে খননকাজ শুরু হচ্ছে। এর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ৮টি প্যাকেজের ২৪ ড্রেজারে চলবে নদের ২২৭ কিলেমিটার খনন কার্যক্রম। এ জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে এর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নির্বিঘœ করাই এই মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খননের মাধ্য ব্রহ্মপুত্রের প্রশস্ত ১০০ মিটার করা হবে। এ ছাড়া গভীরতা এমন করা হবে, যাতে শুকনো মৌসুমে নদের তলদেশে কমপক্ষে ১০ ফুট পানি থাকে।

সূত্র আরও জানায়, খননকৃত ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে জামালপুর ইপিজেডের অধিকাংশ মালামাল পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। খনন সম্পন্ন হলে এ নৌপথ দিয়ে আসাম থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ-ময়মনসিংহ-টোক-ভৈরব-চাঁদপুর-বরিশাল-মোংলা-আংটিহারা হয়ে ভারতের কলকাতার হলদিয়া সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার টন ওজনের পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করবে। পর্যটকবাহী ছোট জাহাজও চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্সখ্যাত নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে সহজে এবং কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে, যাতে মিঠা পানিতে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়বে; নদের আশপাশে সারাবছর সেচ সুবিধা থাকবে। নদীপারের মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে; পরিবেশ রক্ষাসহ এই নদ থেকে বহুমুখী সুফল পাবে জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নদের নাব্য ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার খনন প্রকল্প অনুমোদন পায়। একই বছর ২ নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ নামের প্রকল্পের মধ্যে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে টোক থেকে ৯০ কিলোমিটার খনন করা হবে। বাকিটুকু খননের জন্য দু-এক মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আবারও ব্রহ্মপুত্রের প্রাণ ফেরাতেই এই পরিকল্পনা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৮৮ সালে। কিন্তু সেবার ভয়াবহ ভাঙনের কারণে এই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এর পর সরকার পরিবর্তন হলেও এ নদ খননের দাবি উপেক্ষিত থাকে।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ব্রহ্মপুত্র নদ খননের জন্য দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিল। শম্ভুগঞ্জ গণকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে ব্রহ্মপুত্র খননের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নদী রক্ষা কমিশন ব্রহ্মপুত্র খননের জোরালো সুপারিশ করে সরকারের কাছে। জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির ও ড. মো. সিরাজুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধি দল ব্রহ্মপুত্র নদের যমুনার উৎসমুখে সন্ন্যাসীর চর পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং ভিডিও চিত্র সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান সিরাজের কাছে হস্তান্তর করে।

২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে এক জনসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুবার ময়মনসিংহ সফরের সময় নদটি খননের অঙ্গীকার করেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও।

advertisement