advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বগুড়ায় দেড় লক্ষাধিক চামড়ার হদিস নেই

প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া
২৪ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৯ ০১:১৪
advertisement

বগুড়ায় এ বছর কোরবানির ঈদে সোয়া তিন লক্ষাধিক বিভিন্ন ধরনের পশু কোরবানি করা হলেও গত সোমবার পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা দেড় লক্ষাধিক চামড়া কিনেছেন। মূল্য বৃদ্ধির আশায় কয়েকজন ব্যবসায়ী সামান্য কিছু চামড়া লবণ দিয়ে রাখলেও দেড় লক্ষাধিক চামড়ার হদিস মিলছে না। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে জেলা থেকে চামড়া পাচার কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলারও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন চামড়া ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় এক লাখ ৬৬ হাজার চামড়া লবণ দেওয়া অবস্থায় বিভিন্ন উপজেলায় আছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তারা আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে জেলা সদরের ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া তুলবেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, এবার ঈদের আগে জেলায় তিন লাখ ৮৮ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির উপযোগী ছিল। সেখানে কোরবানি করা হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ হাজার পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৯৫ হাজার, ছাগল এক লাখ ৯ হাজার ও ভেড়া ২২ হাজার ৪২১ ও মহিষ ২৬৮টি।

তিনি আরও জানান, চামড়ার হিসাব তাদের কাছে নেই, এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চামড়া রপ্তানির উদ্যোগকে অনেক আড়তদার স্বাগত জানিয়েছেন। জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়ে চামড়ার বকেয়া পাননি।

শেরপুরের চামড়া ব্যবসায়ী আবদুল জোব্বার ভাট জানান, এ উপজেলায় চামড়া সংরক্ষণের ছয়টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে আবদুল লতিফ লাল মিয়া ১৫ হাজার পিস ও অন্যরা সব মিলিয়ে আরও ১৫ হাজার পিস চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। এ ছাড়া সদর বাদে অন্য ১০ উপজেলায় আরও ৩০-৪০ হাজার পিস চামড়া সংরক্ষণ করা হতে পারে।

বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ঈদে ২৭৫ পিস চামড়া কিনেছেন। প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় কেনেন। প্রতি পিস ১০০ থেকে দেড়শ টাকা লাভে আড়তদারের কাছে বাকিতে বিক্রি করেছেন।

আবুল রহমান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, পুঁজির অভাবে তিনি এবার চামড়া কিনতে পারেননি।

বগুড়ায় গরুর চামড়া ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এর পরও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের নিজেদের পুঁজি দিয়ে চামড়া কিনে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চামড়ার মূল্য না থাকায় কোরবানিদাতারা চামড়া বিক্রির টাকা এলাকার গরিবদের দিতে পারেননি।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার জানান, পুরো জেলায় তাদের ৩৮৭ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনিসহ ২০-২৫ জন ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে গত তিন বছরের বিল কমপক্ষে ৩৫ কোটি টাকা পাবেন। চামড়ার দরপতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্যানারি মালিকরা টাকা না দেওয়ায় তারা এবার ঠিকমতো চামড়া কিনতে পারেননি। ফলে চামড়ার দাম পড়ে যায়। তারা প্রতি পিস গরুর চামড়া ৬০০ থেকে হাজার টাকায় কিনেছেন। এ ছাড়া খাসি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় কিনেন। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আরও কম দামে কিনেছেন। ফলে কোরবানিদাতারা চামড়ার প্রকৃত মূল্য পাননি। প্রতি পিস চামড়ায় তাদের শ্রমিক ও লবণ খরচ পড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, জেলার সব ব্যবসায়ী রোববার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক চামড়া কিনেছেন। এখনো অনেক ব্যবসায়ী লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন। তারা পরে বিক্রি করবেন। দেড় লক্ষাধিক চামড়ার হদিস না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী চামড়া পার্শ্ববর্তী নাটোর, গাইবান্ধা ও নওগাঁ জেলায় বিক্রি করেছেন। পরবর্তী সময়ে এসব চামড়া বগুড়ায় আসবে।

advertisement