advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বন্যার পর রোপা আমনে ব্যস্ততা

মিজানুর রহমান রাঙ্গা, সাঘাটা ষ
২৪ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৯ ০১:১৪
advertisement

বন্যার পানি নেমে গেছে ১০ দিন আগে। এখনো ধকল কাটেনি দুর্গত এলাকায়। চারদিকে শুধু বন্যা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির দাগ। এবার বন্যার পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় মানুষের ঘরের খাবার নষ্ট হয়েছে। সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা, পাটক্ষেত ও সবজিসহ নানা ফসলি জমি। পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে উঠেছে মাঠ। তাই রোপণের শেষ সময়ে আমনের চারা সংগ্রহে গাইবান্ধার সাঘাটার কৃষকদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে। দূর থেকে দ্বিগুণ মূল্যে চারা সংগ্রহ করছেন কৃষক। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চলছে তাদের এ সংগ্রাম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২৯০ হেক্টর জমির আউস ধান, ৯৫০ হেক্টর জমির পাট, ৩০০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১০ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসল বন্যায় নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

পদুমশহর, ভরতখালী, কামালেরপাড়া, কচুয়া ও বোনারপাড়া এলাকার কৃষকরা জানান, বোরোর দাম কম পাওয়ায় এবার আমন ধান রোপণে অধিক মনোযোগী হন তারা। কিন্তু বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন রোপণ নিয়ে এখন দুচিন্তায় কৃষক। এ ছাড়াও উপজেলার ১০ ইউনিয়নের অন্তত ৯শ কৃষকের ফসল তলিয়ে নষ্ট হওয়ায় জেগে ওঠা জমিতে আমন রোপণ করে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় উপজেলার শিমুলতাইর গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়ার আড়াই বিঘা জমিতে আমন রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, গত তিন দিন খুঁজে ১৫০০ টাকায় যে চারা সংগ্রহ হয়েছে, তা দিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ জমি রোপণ সম্ভব হয়েছে। তবে যে কোনো মূল্যে চারা সংগ্রহ করে সব জমিতেই আমন রোপণ করবেন কৃষক বাবলু।

জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর নওগাঁ থেকে আমন চারা সংগ্রহ করে ২৫ শতাংশ জমি রোপণ করেছেন, উপজেলার মান্দুরা গ্রামের কৃষক শচিন চন্দ্র। বালুয়া বড়াইকান্দি গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানিতে চারা নষ্ট হওয়ায় দুই বিঘা জমির আমন রোপণ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। নতুন করে বীজ বপন করছি। চারা পাওয়া গেলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন একই গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন।

সম্প্রতি উপজেলার বাটি, দুর্গাপুর, গাছাবাড়ি, রামনগর, শিমুলতাইর, দলদলিয়া, চন্দনপাট, রাঘবপুর, অনন্তপুর, ময়মন্তপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা এখন শুধু আমনের জমি তৈরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মুবিনুজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এ সময়ে আমন রোপণে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াবেন বলে মনে করেন তিনি।

advertisement