advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফরিদপুরে বেপরোয়া গতির বাস রেলিং ভেঙে খাদে, নিহত ৮

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০১৯ ০৯:২১
advertisement

বেপরোয়া গতির কমফোর্ট লাইনের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আটজন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের সেতুর রেলিং ভেঙে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এ ছাড়া ফরিদপুরে অন্য দুটি ঘটনায় মা-ছেলেসহ আরও তিনজন নিহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ধুলদি নামক স্থানে। প্রত্যক্ষদর্শী, বাসযাত্রী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কমফোর্ট লাইনের যাত্রীবাহী বাস গোপালগঞ্জের পাটগাতি যাচ্ছিল। ধুলদি ব্রিজের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। পরে বাসটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই বাসের ৫ যাত্রী নিহত হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে আরও ৩ জন মারা যান। মৃতদের ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন বাসের সুপার ভাইজার হানিফ (৪৫)। হানিফের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে। নিহত ফারুক হোসেন (৫০) ও আসমা বেগমের (২৯) বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। মৃতদেহগুলো ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিচয় শনাক্তে তাদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরে দুর্ঘটনাস্থলে যান।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসের একযাত্রী রাকিব হোসেন (২৯) বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট পার হওয়ার পর চালক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার বলা সত্ত্বেও গতি কমাননি তিনি। চালক ও সুপারভাইজার ছাড়া বাসে মোট ২৫ যাত্রী ছিলেন বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, লাশ শনাক্তের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মমতাজউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পুলিশের সহায়তায় বাসটি জব্দ করা হয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় লোকাল বাসের চাপায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আবুল সিকদার নামের এক পথচারী। ভাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি একটি অটোরিকশা ও কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে অটো রিকশারযাত্রী রেশমা বেগম (৪০) ও তার ছেলে রাজু (১৮) ঘটনাস্থলে নিহত হন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ধুলদি মুসলিম মিশন এলাকায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হন। তার পরিচয় জানা যায়নি।

সারাদেশে গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্যসহ আরও ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, সাভার, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকা, দিনাজুপরের হিলি ও গাজীপুরে একজন করে মারা যান। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়কের বার্মাশিল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি পোশাক কারখানার স্টাফ বাসের সংঘর্ষে মেহেদী নামে এক চালক নিহত ও ৩০ জন আহত হন। সকালে আড়াইহাজার উপজেলার বগাদী এলাকায় নছিমনের ধাক্কায় আজগর হোসেন নামে এক রিকশাচালক নিহত হন। তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নের সালমদী গ্রামের ওসমানের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও : শহরতলীর জগন্নাথপুর বি-আখড়ায় সন্ধ্যা ৬টায় নৈশকোচ তাজ পরিবহন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে হেলপার ইউসুফ নিহত ও ১৩ জন আহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লায়।

বগুড়া : শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে আবদুল আজিজ নামে এক সেনাসদস্য নিহত হন। আজিজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়ার নুরুল হুদা মাস্টারের ছেলে। তিনি বান্দরবান সেনানিবাসে সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন।

সাভার : নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার ইপিজেড এলাকায় বাসচাপায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক পথচারী নিহত হন। মঞ্জুরুল সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার নুর ইসলামের ছেলে। তিনি ফোর গ্রুপের সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন।

কুড়িগ্রাম : ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের পাটেশ্বরী বাজারে শুক্রবার রাতে ট্রলিচাপায় জিনিয়া আক্তার জুঁই (২) নামে এক শিশু নিহত হয়। জুঁই পাটেশ্বরী বাজার এলাকার আব্দুল জলিলের মেয়ে।

শায়েস্তাগঞ্জ : হবিগঞ্জের এ উপজেলার অলিপুরে সকাল ৭টায় ট্রাকচাপায় আজাদ মিয়া নামে প্রাণ কোম্পানির এক শ্রমিক নিহত হন। তিনি বিজয়নগর উপজেলার বারগিরা গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে।

ভালুকা : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার ধামশুর কনজিউমার মিলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় হৃদয় নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা থানার দক্ষিণ উল্লাহ গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে।

হিলি : দিনাজপুরের হিলি বন্দরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নজরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক নিহত হন। তিনি দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ধরন্দা গ্রামের মৃত ময়েজউদ্দিন শেখের ছেলে।

গাজীপুর সদর : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুরের ধনুয়ায় রডভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানগাড়ীর ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক আব্দুস সাত্তার নিহত হন।

advertisement