advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানাল সোনালী ব্যাংক : জাহালমের কারাবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০১৯ ০৪:২৭ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০১৯ ০৪:৩৮
advertisement

বিনা দোষে পাটকল শ্রমিক জাহালমের কারাবাসের ঘটনায় নিজেদের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানাল সোনালী ব্যাংক। হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ব্যাংকটি।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান গতকাল শনিবার বলেন, ২২ আগস্ট সকালে সোনালী ব্যাংকের হলফনামা আকারে এ প্রতিবেদনটি পেয়েছি। যেখানে তাদের তদন্তে ৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তাই তারা এ ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না মর্মে আদালতের কাছে বক্তব্য তুলে ধরব। আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট দুদক হাইকোর্টকে জানায়, জাহালমকে আসামি করে ঋণ জালিয়াতির মামলার দুদকের ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এর পর আদালত কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে কী কারণে এ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে তা ২৮ আগস্ট জানাতে নির্দেশ দেন। সোনালী ব্যাংক তাদের হলফনামায় নিজেদের একটি তদন্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই জালিয়াতির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকা/দায়িত্ব অবহেলার জন্য (ব্যাংকের) মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা ও স্থানীয় কার্যালয় ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তারিখে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করা হয়। জারিকৃত চার্জশিট নিষ্পত্তিপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক হিসাবটি খোলার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পরিচিতি গ্রহণ করা হয়নি। এ ছাড়াও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অবহেলার জন্য সেনালী ব্যাংকের মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আজিজুল হকের বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ২০১২ সালের ৯ মে এ সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। ২০১৩ সালে পর্ষদের ৩১৪তম সভায় তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়।
অস্তিত্বহীন মোবাইল মেলা নামের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এক কোটি ৩৭ হাজার ৮০ হাজার টাকার জালিয়াতি হয়েছে। এ ব্যাংক হিসাবটি খোলার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করায় এবং ক্লিয়ারিং সংক্রান্ত কাজে অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রোধে ব্যর্থতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আখলাফুন নাহারকে বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮৩তম সভায় এ শাস্তি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
হিসাবটির লেনদেনের প্রবণতা লক্ষ্য না করে এবং চেকের ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ৫টি চেক বই ইস্যু করা হয়েছিল; যা ৯৬টি জালিয়াতিতে ব্যবহার করা হয়। এ অভিযোগে ব্যাংকটির মিরপুর ক্যান্টমেন্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার নিজাম উদ্দিনকে এক বছরের জন্য নিম্নস্তরের মাসিক বেতন দেওয়া হয়। শাস্তির মেয়াদকালে তার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বন্ধ রাখা হয়। অবশ্য শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এ কর্মকর্তা মূল বেতনও পান।
অননুমোদিত ভাউচার আনা-নেওয়া, কম্পিউটার প্রিন্ট ও ভাউচার পরিবর্তন করা, হিসাব খোলায় সহযোগিতা, ভুয়া/জাল স্বাক্ষর এবং স্ট্যাম্প ব্যবহার করার দায়ে ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাপোর্টিং সাব স্টাফ মো. মাইনুল হককে ২০১৪ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও অর্থ পাচারের মামলা হয়। মামলাগুলো বিচারাধীন।
মাইনুল হককে প্রধান কার্যালয় থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার দায়ে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাপোর্টিং সাব স্টাফ মিজানুর রহমানের বার্ষিক দুটি প্রবৃদ্ধি দুবছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় কার্যালয়ের সাপোর্টিং সাব স্টাফ আজিজুল হককে কঠোরভাবে সতর্ক করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। স্থানীয় কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানকে তিরস্কার করা হয়। একই কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহতাব উদ্দিনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

advertisement