advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কাশ্মীর না ভারতের অশনিসংকেত

মেজর (অব) সুধীর সাহা
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০৮:৫১
advertisement

আধুনিক সভ্যতার আগে ভারতবর্ষের ক্ষমতা বদলের সঙ্গে জনগণের তেমন সম্পর্ক ছিল না। যার শক্তি যত বেশি, সে-ই দখল করে নিত সিংহাসনের অধিকার। আর জনগণ তার শাসনই মেনে নিত। জনগণের বক্তব্য অথবা ইচ্ছার মূল্য সেখানে কিছুই ছিল না। এ চিত্র যে শুধু ভারতবর্ষেই ছিল তা নয়, এ চিত্র ছিল তখনকার পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও। কিন্তু গণতন্ত্র একসময় নিয়ে এসেছিল দেশের জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ। তখন থেকেই রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে জনগণের ইচ্ছার যোগসূত্র স্থাপিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।

আধুনিক সভ্যতার আলো ছড়ানোর সংবাদ বুঝি তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ টের পেয়েছিল। ভালোভাবে আলো আসার আগেই ঘটে গিয়েছিল ভারত ভাগ। যে দূষিত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ, তার প্রভাবে ভারত-পাকিস্তান কখনো বৈরী মনোভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ভারত-পাকিস্তানের এই বৈরী প্রভাব কাশ্মীরকেও স্পর্শ করেছে বারবার।

১৯৪৭ সালে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও কাশ্মীরের স্বাধীন অস্তিত্বের ওপর প্রথম আঘাত হেনেছিল পাকিস্তান। তখনো জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ও লিয়াকত আলী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানপন্থি একদল উপজাতীয় যোদ্ধা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থনের ভিত্তিতে কাশ্মীরের একাংশ দখল করে নেয়। আজাদ কাশ্মীর নামে খ-িত কাশ্মীরের আবির্ভাব এভাবেই। বাকি অংশ দখল হয়ে যাওয়ার আগেই তৎকালীন কাশ্মীররাজ হরি সিং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখন থেকেই কাশ্মীর ভঙ্গ হয়ে আছে এবং সেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে গিয়েছে।

শত চেষ্টা করেও ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কিংবা জাতিসংঘ কাশ্মীরের অখ-তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। ভারত ক্ষুব্ধ ছিল কাশ্মীর বিভাজনে, আর পাকিস্তান ক্ষুব্ধ ছিল পুরো কাশ্মীর দখল না করতে পেরে। কাশ্মীরের সেক্যুলার গণতন্ত্রী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেখ আবদুল্লাহ থেকে শুরু করে তৃতীয় প্রজন্মের উত্তরসূরিদের রাজনীতিও সব সময় সেক্যুলার জাতীয়বাদী কাশ্মীরি হয়ে থেকেছে। সেই কাশ্মীর আর তার জাতীয়বাদী চরিত্র ধরে রাখতে পারল না এবার। নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার কাশ্মীর নিয়ে রাজনৈতিক সার্জারির নীতি গ্রহণ করে বসল। দ্বিতীয় ধাপে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৭০ দিনের মাথায় কাশ্মীরিদের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভূরাজনৈতিক সুবিধা হরণ করা হলো সংবিধান সংশোধন করে। স্বশাসন, স্বায়ত্তশাসন, বিশেষ সুবিধা- সবকিছু বাতিল করে দেওয়া হলো।

নিজেকে ভারতের ফেডারেল শাসনব্যবস্থার প্রবক্তা হিসেবে দেখানোর অভিনয় করা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময় দাবি করেনÑ তিনি নাকি রাজ্যগুলোকে অধিক স্বাধীনতা দেওয়ায় বিশ্বাসী। কিন্তু যে জম্মু-কাশ্মীর ৭০ বছর ধরে স্বায়ত্তশাসনের বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিল, তা এক ঘোষণাতেই বাতিল করে দিলেন। রাজ্যের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ভেঙে দুভাগ করলেন- জম্মু-কাশ্মীর ও লাখাদ। দুটি অঞ্চলকেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলরূপে আখ্যায়িত করলেন। কাশ্মীর এতদিনে তার রাজ্যসত্তা হারাল। এখন জম্মু-কাশ্মীরে ভিন্ন জাতিসত্তা, ভিন্নভাষী মানুষ জমি কিনে স্থায়ী বাস গড়ে তুলতে পারবে। নামে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও কার্যত সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসিত হওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে এই কাশ্মীরের।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের দলনেতা গোলাম নবী আজাদ বলেছেন, ‘সংবিধানকে হত্যা করা হলো।’ কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ফারুক আবদুল্লাহর তীব্র প্রতিক্রিয়া- ‘দিনটি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। ১৯৪৭ সালে যে বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, কাশ্মীরের মানুষের সে বিশ্বাস ভেঙে দেওয়া হলো। এ পদক্ষেপ বিপজ্জনক।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ভারত সরকারের এমন কার্যকলাপে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতের বিশিষ্ট নাগরিক অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনে ভারত এত কিছু করার পরও আজকের কাজের পর ভারতীয় হিসেবে আমি আর গর্ববোধ করতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে ভারতই প্রথম দেশ, যারা গণতন্ত্রকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু কাশ্মীর ইস্যুতে যে পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তাতে আমরা সেই মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছি।’

গণতন্ত্রী ভারত, সেক্যুলার সংবিধানের ভারত বিভাজনবিরোধী ছিল সব সময়। ভূতাত্ত্বিক অখ-তার পক্ষে রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণের যে চেষ্টা এত বছর ধরে করে এসেছিল, বিজেপির গেরুয়াধারী সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসীন হয়ে সেই ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে। এমন একতরফা ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের সঙ্গে কাশ্মীরের জনগণের কোনো যোগসূত্রই ছিল না। হঠাৎ করেই যেন ভারতের ইতিহাসে এসে গেল এমন একটি কালো ছায়া। এর ফলে দেশটির ফেডারেল শাসন কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটল ধরতে সুযোগ পাবে হয়তো।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের সিদ্ধান্ত অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটি অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে। এ সিদ্ধান্তে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য নাগাল্যান্ডের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকবে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই যেভাবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ভারতের ফেডারেল শাসনব্যবস্থার রেকর্ডে একটি বড় কালো দাগ হয়ে থাকবে। এতে কেউ কেউ ভাবতেই পারে যে, ভারত সম্ভবত একক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক নীতির বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে, যা ভারতের ফেডারেল শাসনব্যবস্থার কাঠামোকে দুর্বল করবে।

কাশ্মীরসহ ভারতের কিছু মানুষের কাছে এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। কাশ্মীর যদি মুসলমানপ্রধান রাজ্য না হতো, তা হলে কি মোদি-শাহ জুটিও এমন সিদ্ধান্ত নিতেন? মোদি সরকার তো নাগাদের সঙ্গে স্বশাসন নিয়ে কথা ঠিকই বলছে। বিশেষ ধারা তো হিমাচল প্রদেশে আছে, উত্তরখ-ে আছে, মহারাষ্ট্র, অন্ধপ্রদেশ, তেলেঙ্গুনা, ছত্রিশগড় ও গুজরাটেও আছে। গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও আছে। তা হলে শুধু কাশ্মীরে আঘাত কেন? এসব প্রশ্ন হয়তো কেউ তুলছে না। কংগ্রেস ইতোমধ্যেই শয্যাশায়ী। ছোট ছোট দল বিজেপির বহুমুখী চাপে নতজানু।

অন্যদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠলেও তা শুধু আলোচনার টেবিলেই থাকে। চীন ছাড়া অন্য কারও সমর্থন পাকিস্তান পেল না। জাতিসংঘও বৈঠকের পর কোনো বিবৃতি বা অভিমত জানাল না। মুসলিম দুনিয়াও নীরব। গোটা পৃথিবীকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য বোঝাতে পেরেছে যে, কাশ্মীরে যা হয়েছে তা সে দেশের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই কোনো জোরালো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে না মোদি সরকারকে। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ (এ) ধারা বাতিল করার পর কাশ্মীরের জনগণের প্রতিরোধ সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার কাশ্মীরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বন্দি করেছে। কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের অংশ এবং দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। কাশ্মীরে বর্তমানে জনগণের সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।

ধরে নিচ্ছি, ভারতের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অন্যান্য রাষ্ট্র কিংবা জাতিসংঘকে চুপ করিয়ে দিতে পেরেছে। ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তারা চুপ হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও তারা অফিসিয়ালি এমন বক্তব্য দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান ও চীন ঠিক চুপ করে বসে নেই। একদিকে পাকিস্তান শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে বোঝাতে চেষ্টা করছে যে, ভারত কাশ্মীরিদের ওপর অন্যায় করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত-পাকিস্তানে উত্তেজনা বজায় রাখছে।

দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের ওপর এটি নতুন ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধ-যুদ্ধ একটি অবস্থা বিরাজ করছে যেন। যুদ্ধ হয়তো বাধবে না এটা নিয়ে, কিন্তু পাকিস্তান যে এই ইস্যুতে আরও অনেক দূর যাবে, তা ¯পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। পাকিস্তানের পাশে আছে চীন, যে সুযোগ নিতে পারে ভারতের বিরুদ্ধে চমৎকার একটি অনুঘটনের। সর্বোপরি আছে কাশ্মীরের জনগণ। তারা কী চায়, তার তোয়াক্কা করেনি ভারত। চাপিয়ে দিয়েছে তাদের ওপর পরাধীনতার বন্ধন। প্রতিক্রিয়ার অবস্থা তাদের ঠিক কতখানি কিংবা কেমন তা বোঝা যাবে একটু পর। জরুরি অবস্থা বজায় থাকায় ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কাশ্মীরে ভারতের এই চাপিয়ে দেওয়া বিধান তারা কীভাবে নেবে?

কিন্তু ভারতের বর্তমান সরকার তাদের আস্থায় নিতে পারেনি কিংবা আস্থায় নিতে চায়নি। জোর করে চাপিয়ে দিয়ে ভারত সরকার কতখানি সফলকাম হবে, তা দেখার জন্য আমাদের হয়তো আরও একটু সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা পাকিস্তান হয়তো নাও করতে পারে। তাদের হাত থেকে বাংলাদেশ চলে যাওয়ার জন্য তারা সব সময় ভারতকে দায়ী করে। কাশ্মীর নিয়ে তারা প্রতিশোধের কৌশল আঁটতে পারে এবার। চীন শুরু থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে আছে। জম্মু-কাশ্মীর আর পাকিস্তানের আজাদ-কাশ্মীরের অবস্থান পাশাপাশি। জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের ওপর নির্ভর করছে তারা পাকিস্তানের টোপ গিলবে কিনা।

ভারত এই বিধান চাপিয়ে দেওয়ার আগে কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছার ওপর বিন্দুমাত্র মূল্য দেয়নি। তারা কী চায় তা দিয়ে নয়, বরং ভারতের মোদি সরকার কী চায় তাই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কাশ্মীরিদের ওপর। গণতন্ত্রী ভারতের এ যেন একেবারেই একটি নতুন চরিত্র। অপেক্ষায় থাকলাম, সামনের দিনের ভারত ও কাশ্মীরিরা গণতন্ত্রের পথেই থাকে কিনা তা দেখার প্রত্যাশাায়। তবে এটুকু বলা যায়, বিষয়টি মোদি সরকার জোর করেই টেনে এনেছেন। একেবারেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ভারত-পাকিস্তান একটি অস্বস্তিকর অবস্থানে ছিল সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই। তার পর জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের বর্তমান পদক্ষেপ সেই অবস্থানকে আরও সংঘাতময় করবে, এটা বোঝার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ভারতের মোদি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখলের ৭০ দিনের মাথায়ই এত বড় একটি ঝুঁকি নিয়ে বসেছে! তাদের প্রস্তুতি কতটুকু আছে, কীভাবে আছে জানি না। তবে তারা যাদের বিরুদ্ধে এটা করেছে, সেই কাশ্মীরিদের আস্থায় নেওয়ার কোনো গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টাই যে মোদি সরকার করেনি, তা সত্য। তারা সম্ভবত এমনটাই ভেবেছে যে, কাশ্মীরিদের জোর করে মানিয়ে নিতে পারবে।

কাশ্মীরিরা চুপ করে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, না এ সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য দীর্ঘকালীন একটি সমস্যা ডেকে আনবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে কাশ্মীরিরা এ নিয়ে যা-ই করুক, পাকিস্তান কিংবা চীন ভারতের বিরুদ্ধে এ নিয়ে যত রাজনৈতিক কিংবা সামরিক কর্মকা-ই কাশ্মীরিদের মধ্যে ছড়াতে চেষ্টা করুক, তা সবটাই হবে ভিন্ন পরিস্থিতির ভিন্ন অধ্যায়। তা নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। তবে যেটুকু বলা যায়- আমরা যে ভারতকে চিনি, মোদির হাতে এসে হঠাৎ করে যেন সেই গণতন্ত্রী ভারতের চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। কাশ্মীর একটি মাটির নাম নয়, কাশ্মীর কাশ্মীরিদের আবাসস্থলের নাম। সেই কাশ্মীর নিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত সরকার কাশ্মীরিদের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করবে না- এটা যেন ভারতের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

পশ্চিমা দুনিয়ার বাইরে একমাত্র গণতন্ত্রের পূজারি যে ভারত, তার জন্য এ কাজ যেন মানায় না। এমন একটি কাজ পাকিস্তানের হাতে হলে অবাক হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে ভারতের হাত দিয়ে, যে ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবার কাশ্মীর নিয়ে তার অগণতান্ত্রিক কর্মকা-ের অবতারণা করে বসল! ভারতের জন্য এটি যেন সবচেয়ে বেদনার বিষয় হয়ে না থাকে আগামী দিনের জন্য।

advertisement