advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আসামিদের বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন দেবেন আইও

মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফেনী
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল রবিবার ৩৬তম দিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদের আদালতে এ মামলার সর্বশেষ ৯২ নম্বর সাক্ষী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ফেনী শাখার পরিদর্শক মো. শাহ আলম আংশিক সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া নুসরাতের মৃত্যুসনদ প্রদানকারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার ওবায়দুল ইসলামও

সাক্ষ্য দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের সাক্ষ্য উপস্থাপন এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার জবানবন্দি শেষে নুসরাত হত্যামামলার আসামিদের সম্পৃক্ততার অডিও ও নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দির ভিডিও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করবেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম। এর পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের জবানবন্দি শেষে নুসরাত হত্যামামলার আগে-পরে আসামিরা হত্যাকা-ে অংশগ্রহণ করে যে উল্লাস করেছে এবং তাদের কথোপকথন ও নুসরাতের জবানবন্দিও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বিচারককে দেখানোর অনুমতি চাইলে বিচারক তা গ্রহণ করেন। প্রদর্শনের অনুমতিও দেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথম মামলা; কোনো হত্যাকা-ের ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে তা প্রদর্শন করা হবে।

তিনি আরও জানান, নুসরাত হত্যামামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষদিকে। এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অভিযোগপত্র প্রদানকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ফেনী শাখার পরিদর্শক মো. শাহ আলমের সাক্ষ্য শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হবে। এ মামলার ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার এজাহারে ৯২ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে ৯২ জনকে সাক্ষ্যের জন্য আদালতে ডাকা হলে ৪ জন আদালতে সশরীরে উপস্থিত না হলেও তারা ডকুমেন্টারি সাক্ষী হওয়ার কারণে আদালতে উপস্থিত সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন। কারণ তাদের পক্ষে আদালতে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ মামলার সাক্ষ্য আইনের বিধান অমান্য করে তারা ডিজিটাল পদ্ধতি ভিডিও দেখাবে। এসব কিছু একতরফাভাবে করছে। আসামিদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার জন্য দুরভিসন্ধিমূলক এসব কাজ করছে।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও বাবা মাওলানা একেএম মুসাসহ ৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৈৗলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

advertisement