advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আরও এক জাহালম-কা-
নামে মিল ও পুলিশের ভুলে কারাগারে জামসু মিয়া

আদালত প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০৮:২৯
advertisement

নামের মিল আর পুলিশের ভুল। এ দুই কারণে আসামি না হয়েও গত ৮ আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন মো. জামসু মিয়া। কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার উদিয়ারপাড়ার সিরাজুল হকের ছেলে ৩৭ বছর বয়সী জামসুকে গতকাল রবিবার সিএমএম আদালতে তোলা হয়। এদিন শুনানির পর ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) উপরোল্লিখিত বিষয়ে দশ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অপরাধী না হয়েও পাটকল শ্রমিক জাহালমকে সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩ মামলায় আসামি হয়ে তিন বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল। অনেক ঘাটের জল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান। এ ঘটনা যখন দেশবাসীর মুখে মুখে তখনই জানা গেল, রাজধানীর পল্লবীর বেনারসি কারিগর আরমানকেও একই রকম দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। শুধু পিতার নামে মিল থাকায় দশ বছর সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির পরিবর্তে তিন বছর ধরে তিনি কারাবন্দি।

এ নিয়ে আমাদের সময়ে ‘আরেক জাহালমকা-’ নামে সংবাদ প্রকাশের পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ দুই কা-ের রেশ এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যেই জামসু মিয়াকে নিয়ে ঘটে গেল আরও এক জাহালমকা-।

জানা যায়, ঢাকা সিএমএম আদালতে ২০১৫ সালের ১১ জুন জনৈক মানহুরা খাতুন (২৬) তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. জামসু মিয়ার (সাগর) বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে সিআর ২১৯/২০১৫ মামলা করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন আসামির অনুপস্থিতিতে তার এক বছর তিন মাস কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদ- দিয়ে রায় প্রদান করেন। আসামি পলাতক থাকায় রায় প্রদানের পর আদালত জামসুর নামে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। সেটি ইটনা থানায় পৌঁছলে গত ২৫ জুলাই ওসি মোহাম্মাদ মোর্শেদ জামান পরোয়ানা তামিলে এসআই শামছুল হাবিবকে দায়িত্ব প্রদান করেন। গত ৭ আগস্ট সিরাজুল হকের ছেলে মো. জামসু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠান আদালত।

কারাবন্দি জামসু মিয়ার আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ গত ২২ আগস্ট ভুল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে রায় প্রদানকারী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সেদিন বিষয়টি অবগত হয়ে মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন মো. জামসু মিয়ার উপস্থিতিতে ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার কিশোরগঞ্জের কারাগার থেকে রায় প্রদানকারী আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

এদিন শুনানিকালে সাজার রায়প্রাপ্ত প্রকৃত আসামি মো. জামসু মিয়ার (সাগর) আইনজীবী এসএম গোলাম ছোবহান শেখুনও ভুল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি সত্য বলে আদালতকে জানান এবং মো. জামসু মিয়ার জামিনের আদেশ প্রার্থনা করেন তার আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী। এর পর বিচারক সাজাপ্রাপ্ত আসামি আর কারাবন্দি যিনি, তারা দুজন ভিন্ন ব্যক্তি কিনা তা তদন্ত করে দশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন এবং মো. জামসু মিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন।

শুনানির পর আদালতের বাইরে মামলার প্রকৃত আসামি মো. জামসু মিয়ার (সাগর) আইনজীবী এসএম গোলাম ছোবহান শেখুন বলেন, আমার মামলার আসামিকে আমি চিনি। যাকে পুলিশ ধরে এনেছে, সে ওই মামলার আসামি নয়। শুনানির সময় আদালতকেও আমি এ কথা বলেছি।

কারাবন্দি জামসুর আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী বলেন, গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে ভুলের বিষয়টি বলা হলেও পুলিশ জামসু মিয়াকে ছাড়েনি। এমনকি বিষয়টি যাচাই করে পর্যন্ত দেখেনি। এ কারণেই নিরপরাধ হয়েও আজ কারাগারে আছেন জামসু মিয়া। তিনি আরও বলেন, যতদূর শুনেছি, মামলার প্রকৃত আসামি এখন জর্ডানে আছেন।

advertisement
Evall
advertisement