advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সালিশের মতামতে স্কুলছাত্রীকে বিয়ে ১২ দিন পর অন্য মেয়েকে বিয়ে করল ধর্ষক

নজরুল মৃধা, রংপুর
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

বদরগঞ্জ উপজেলায় বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এক যুবক। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হলে গত ৪ আগস্ট এলাকায় সালিশ বসে। সেই সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুবকটির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন বাবা। এর ১২ দিন পর গত ২০ আগস্ট যুবকটি আরেক মেয়েকে বিয়ে করে এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ধর্ষিতা ছাত্রীকে। ওইদিনই ছাত্রীর বাবা বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন। তবে থানায় এখনো তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। পুলিশ বলছে, ছেলেসহ পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে থাকায় অধিকতর তদন্ত করতে হচ্ছে। ঘটনাটি উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার ডাঙ্গা পাড়ার।

অভিযোগে জানা যায়, ওই এলাকার এক দিনমজুরের তিন মেয়ে। দিনমজুরি করে বড় মেয়ের বিয়ে

দিয়েছেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় মেজো মেয়েকে রাজারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ছোট মেয়েকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। মেজো মেয়ে ছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। মেজো মেয়ের প্রতি কুনজর পড়ে প্রতিবেশী নারায়ণ চন্দ্র রায়ের ছেলে প্রকাশ চন্দ্র রায়ের। পাঁচ মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে মেয়েটিকে বরই খাওয়ানোর জন্য ডেকে নেয়। এর পর জোর করে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করে। এ কথা কাউকে না জানাতে প্রকাশ চন্দ্র রায় কড়া ভাষায় মেয়েটিকে শাসায়। ফলে মেয়েটি বিষয়টি চেপে যায়। সম্প্রতি শারীরিক পরিবর্তন এবং অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। চিকিৎসকরা মা-বাবাকে জানান, মেয়েটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দিনমজুর বাবা উপায় না পেয়ে সমাজপতিদের দ্বারস্থ হন। এর পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ নিজের দোষ স্বীকার করে। সমাজপতিরা মেয়েটির সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার মতামত প্রদান করেন। সে অনুযায়ী ঘটা করে প্রকাশ ও মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়েতে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা যৌতুক নির্ধারণ হলেও দিনমজুর পিতা তার দুধেল গাভী বিক্রি করে বরপক্ষকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকি এক লাখ টাকা প্রদান করতে তিনি প্রকাশের বাবা-মার কাছে সময় প্রার্থনা করেন। বিয়ের আসরে প্রকাশসহ তার বাবা-মা কিছু না বলে নববধূকে বাড়িতে তোলেন। কদিন যেতে না যেতেই তারা যৌতুকের বাকি এক লাখ টাকা আনতে মেয়ের বাবাকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু অসহায় দিনমজুরের পক্ষে সেই টাকা প্রদান করা সম্ভব না হওয়ায় নির্যাতন চলে মেয়েটির ওপর। এর পরও শ^শুরবাড়িতেই পড়ে থাকে মেয়েটি। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১২ দিনের মাথায় প্রকাশ চন্দ্র রায় আরেক মেয়েকে বিয়ে করে।

গতকাল রবিবার দুপুরে বদরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রবিউল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসআই রবিউল ইসলাম জানান, প্রকাশ ও তার পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে থাকায় অধিকতর তদন্ত করতে হচ্ছে। এ কারণে স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।

advertisement