advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাংকেতিক শব্দে দোকান অফিসে চুরি করত তারা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করে দোকান ও অফিসে চুরি করত চোরচক্র। গত ১২ বছর ধরে সারাদেশে ৯ থেকে ১০টি দলে ভাগ হয়ে এ অপকর্ম করে আসছিল চক্রটির সদস্যরা। তাদের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি এলজি, একটি লোহার রড কাটার যন্ত্র, চারটি কার্তুজ ও একটি রড উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চুরির সময় বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করত। এর মধ্যে পুলিশকে তেইল্লাচোরা (তেলাপোকা), দোকানকে অফিস, তালাকে আম, কার্টারকে গাড়ি, চাদরকে ঠোঙ্গা, দোকানের ভেতর চুরির জন্য যে প্রবেশ করে তাকে অফিসম্যান, সংবাদদাতাকে বলে লাইনম্যান, চুরি করাকে ডিউটি, চুরির টাকা-পয়সাকে ব্যবসা ও চুরি করা টাকা ভাগ করার সময় ১ লাখ টাকাকে বলে ১ টাকা বলত।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার এসএম মেহেদী হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। শনিবার রাতে নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকার আবাসিক হোটেল তুনাজ্জিন থেকে এই ১১ চোরকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

উপ-কমিশনার এসএম মেহেদী হাসান বলেন, সংঘবদ্ধভাবে তিনটি ধাপে চুরির ঘটনা ঘটাতো চক্রটি। প্রথম ধাপে চক্রের প্রধান হানিফ বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকা ঘুরে ঘুরে চুরির জন্য দোকান বা অফিস টার্গেট করত। দ্বিতীয় ধাপে টার্গেট করা দোকান বা অফিসগুলো পর্যবেক্ষণ করত কামাল। সে এই চক্রের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সে

দোকানগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ থাকতে পারে, কীভাবে ঢুকতে হবে, চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কিনা, চুরি করতে কী ধরনের সরঞ্জাম ও লোকবল লাগবে সেসব পর্যবেক্ষণ করে গ্রিন সিগন্যাল দিত। কামালের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় লোকজন ও সরঞ্জাম নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে চুরি করতে যেত চক্রের বাকি সদস্যরা। দুই-তিন মিনিটের মধ্যে ভেতরে ঢোকা লোকটি ক্যাশবাক্স ও লকার ভেঙে দোকানের মূল্যবান মালপত্র সরিয়ে নিত।

উপ-কমিশনার এসএম মেহেদী আরও জানান, গত ১২ বছরে চক্রটি রাজধানী ঢাকার গুলশান, মহাখালী, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কুমিল্লা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম শহরে অসংখ্য দোকান ও অফিসে চুরি করে। চুরির আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করত তারা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. হানিফ ওরফে হাতপোড়া হানিফ, মো. কামাল হোসেন, লিয়াকত হোসেন, মো. আকরাম প্রকাশ সাগর, মো. তৌফিক, মো. মাসুম, মো. মিজানুর রহমান, নয়ন মল্লিক, মো. মিলন, জামাল উদ্দিন ও মো. কামাল ওরফে জসিম। তাদের মধ্যে লিয়াকত হোসেন ও নয়ন মল্লিকের বাড়ি চট্টগ্রামে, কামাল হোসেনের বাড়ি নরসিংদী এবং অন্যদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

চোর চক্রটি গত ২৭ জুন সকালে নগরীর নন্দনকানন গোলাপ সিং লেনের নিউ লাকি ইলেকট্রনিক্স থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে জুবলী রোডের সিডিএ মার্কেটের রয়েল প্লাজায় কাজী কম্পিউটারস নামের দোকান থেকে ১২টি ল্যাপটপ, ৫২৫ পিস পেনড্রাইভ, ৪৫০ পিস মেমোরি কার্ড চুরি করে।

advertisement