advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনে সিসিকের বরাদ্দ কোটি টাকা

সজল ছত্রী, সিলেট
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

বিগত অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় একবারের জন্যও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম মুখে বা ঘোষণায় আনেনি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনের আগে ঘোষিত ১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নেননি সিটি করপোরেশনকে বিশাল বাজেট বরাদ্দ দিয়ে আলোচনায় থাকা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নামও। সিটি করপোরেশন আয়োজিত ১৫ আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু বাজেট ঘোষণায় সবাইকে চমকে দেন বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির এই সদস্য। জানান, জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ১ কোটি টাকা এবং শোক দিবস পালনে ব্যয় করা হবে ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি কপোরেশনের নিজস্ব প্রকল্পে লালদীঘি বঙ্গবন্ধু মাল্টিপ্ল্যান কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি। নতুন কোনো করারোপ না করে ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার

টাকা আয় এবং সমপরিমাণ ব্যয় দেখিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় নগরীর দরগাহ গেটের একটি হোটেলের বলরুমে এই বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেট ঘোষণার শুরুতেই সবাইকে চমকে দিয়ে আগস্ট মাসকে জাতির জন্য শোকের মাস এবং বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বিএনপির এই নেতা।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বাজেট বাস্তবায়নে সহায়তা চান সিলেট অঞ্চল থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর কাছেও।

সিটি মেয়রের আকস্মিক পরিবর্তনে মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হলেও বাজেট ঘোষণায় উপস্থিত সুধিজন বিষয়টিকে সাধুবাদ জানান। জাতির জনকের স্থান রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা এবং উন্নয়নের স্বার্থে দলীয় পরিচয় ভুলেই কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

গতানুগতিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয় ধরা হয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কর ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইমরাত নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের ওপর কর ২ কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার ওপর কর ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপনের ওপর কর ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফি বাবদ ২৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরি খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরি খাতে ১০ কোটি টাকা এবং সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২০০ কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে।

রাজস্ব খাতে ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং অবকাঠামো খাতে ৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর নির্ধারক চন্দন দাশের সঞ্চালনায় বাজেট ঘোষণাকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সুজন সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামসহ সিটি কাউন্সিলরা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement