advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাকে পেটায় এ কেমন শিক্ষক?

তারিকুল ইসলাম কাজী রাকিব পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
২৬ আগস্ট ২০১৯ ১৩:৫২ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ২০:০৫
advertisement

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জন্মদাতা মাকে নির্যাতন ও ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওই শিক্ষককে সাবধান করে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় তিনি। বারবার নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বিচার দাবি করেছেন বৃদ্ধা মা জাহানার বেগম (৮০)।

অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ আলম বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের সাবেক চার্জ চেয়ারম্যান মৃত আলী আকবরের ছেলে। তিনি ৪৬ নং শিংড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার সময় জাহানার বেগম সাংবাদিকদের জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তার স্বামীর নির্মাণ করা ঘরে ছেলে মাসুদ আলমের সঙ্গে থাকলেও প্রায়ই তাকে ঘর থেকে নেমে যেতে বলতো এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতো মাসুদ আলম ও তার স্ত্রী। সম্প্রতি মাসুদ আলম ও তার স্ত্রী মোসা. রুমা আক্তার এবং মাসুদ আলমের ছেলে ইফতি জাহানারা বেগমকে বেধমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ঘর থেকে বের করে দেয়।

বিষয়টি জাহানারা বেগম স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানালে তিনি ওই শিক্ষক মাসুদ আলমকে ডেকে সাবধান করে দেন। এর পর সংসদ সদস্য বাসা থেকে বের হয়ে গেলে পাথরঘাটা কলেজের সামনে আবারও মা জাহানারা বেগমকে মারধর ওই শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত জানালে মাসুদ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় জাহানারা বেগমকে মারধর করে। এতে স্বামীর ঘরে ঠাঁই না পেয়ে অবশেষে বাড়ির পাশে দেবরের ঘরে আশ্রয় নেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, শিক্ষক মাসুদ আলমকে তার পিতা আলী আকবর ১৯৯০ সালের দিকে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কাকচিড়া পুলিশ ফাড়িতে সোপর্দ করেন।

নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখে নিতে চাইলে তা না দেওয়ার কারণে আমাকে মারধর করে।’

এদিকে বৃদ্ধা মাকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টিতে চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় শিক্ষক সমিতি।

স্থানীয় এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ আলমের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা বরিশালের বরাবর সুপারিশ প্রদান করেছেন বলে জানান তিনি।

একাধিক এলাকাবাসী জানান, শিক্ষক মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মাদক ও সুদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধে তাকে কারাবাসসহ জরিমানাও দিতে হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, ‘যে শিক্ষক বৃদ্ধা মাকে পেটাতে পারে তার মতো শিক্ষক এ উপজেলায় দরকার নাই, আমি শিক্ষক মাসুদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’

শিক্ষক মাসুদ আলমের সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রুপকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাসুদ শিক্ষক নামে তিনি কলঙ্ক। তাকে নারী কেলেঙ্কারি ঘটনায় এলাকাবাসী আটক করে ছিল। পরে আমি ও পার্শ্ববর্তী কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে তাকে জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছি।’

পাথরঘাটা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ছগির হোসেন বলেন, যে শিক্ষক বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিতে পারে সে কি-করে জাতি গড়বে? মাসুম আলমের কার্যকলাপ গোটা শিক্ষক জাতিকে কলুষিত করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি সংক্রান্ত ঘটনায় মায়ের সঙ্গে একটু বিরোধ আছে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, শিক্ষক মাসুম আলমের বিরুদ্ধে আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আর প্রাথমিকভাবে মাকে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অধীনে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement