advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকে মুছে দিতে চেয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৯ ০০:৫১
advertisement

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে মুছে দিতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। তারা জানত যে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের একজনও বেঁচে থাকলে তার স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করবে। তাই ছোট শিশু নিষ্পাপ রাসেলকেও হত্যা করে তারা। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দুই কন্যা বিদেশে থাকায় তারা বেঁচে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন তার স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে

যাচ্ছেন।’ গতকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) কার্যালয়ে আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বায়রার সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহা. নূর আলী, সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, মো. আবুল বাসার, মো. শাহজালাল মজুমদার। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ এমপি।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আগস্ট মাস শোকের মাস। এ মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবাবের সদস্যদের ষড়যন্ত্রকারীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। শিশু রাসেলকে হত্যার কী প্রয়োজন ছিল? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই তো পারত। কিন্তু ওরা জানত যে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ বেঁচে থাকলে তার স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তার দুই কন্যা বেঁচে যান। এখন বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সোনার বাংলা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘অনেকেই দেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে। তার প্রশংসা করে। কিন্তু আমি বলবÑ বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, চিন্তা করেছিলেন যে; পাকিস্তানের সঙ্গে থাকলে আমরা অধিকার বঞ্চিত হব। তারা আমাদের অধিকার দেবে না। তিনি যে এই চিন্তা করলেন এ জন্য তাকে ক্রেডিট দেওয়া দরকার। তিনি এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই স্বাধীনতার ডাক দেন। আর সেই ডাকে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তানিরা অনেক আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল বলেই ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুকে জেলে রেখেছিল। তারা জানত তিনি বাইরে থাকলে ওই সময়ই স্বাধীনতার ডাক দিতেন।’ তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান হওয়ার পর ’৬৯ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের মাত্র চারজনকে সচিব করে। তাদেরও এ পদমর্যাদা দেওয়া হয় বাধ্য হয়ে। তখন বাংলাদেশে কোনো ব্যবসায়ী ছিল? কোহিনূর অথবা আদমজীর এজেন্সি হতে পারলেই তখন অনেক কিছু। নিজেদের আদমজী অথবা কোহিনূর হওয়ার মতো সুযোগ ছিল না।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কী হলো? ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীনতাকে সহ্য করতে পারল না। তারা বলেছিলÑ বাংলাদেশ দিয়ে কিছুই হবে না। সেই থেকে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু। এখনো চলছে। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এ অল্প সময়ে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রী কাজ করতে গিয়ে বুঝেছেন। প্রধানমন্ত্রী যা কিছু নতুন করতে যান, সেখানেই দেখেন বঙ্গবন্ধু ওই সময়েই পরিকল্পনা করে রেখেছেন।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর যখন প্রথম বেক্সিমকো গ্রুপ প্রতিষ্ঠা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলাম বেসরকারি খাতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধু তখন শর্তজুড়ে দিয়ে বললেনÑ ট্র্যাডিশনাল পণ্যের সঙ্গে নন-ট্র্যাডিশনাল পণ্যকেও রপ্তানি করতে হবে। তিনি যে রপ্তানির ঝুঁড়িকে প্রশস্ত করতে চেয়েছিলেন, তা এখন বোঝা যায়।’

বায়রার সাবেক সভাপতি মোহা. নূর আলী বলেন, ‘আমরা জানি প্রত্যেক পরিবারের একজন পিতা থাকেন। তেমনি একটি জাতিরও একজন পিতা থাকেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাঙালি জাতির পিতা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অনেকেই তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালান, অনেকই স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন। আমি তাদের একটি কথাই বলতে পারি যে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। তখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ যেভাবে তার ডাকে সাড়া দিয়েছে সেখানে বিতর্কের কিছুই নেই। আর এটি একদিনে হয়নি, ধাপে ধাপে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দীতে ভাষণ দিয়েছেন তখন আমিও সেখানে ছিলাম। পরের দিন ৮ মার্চ আমিও এলাকায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দিয়েছি। ভাষণ দিয়েছি। সুতরাং একটা কথা আছে যে, আজান দিলেই ছেলের বাপ হওয়া যায় না। অনেকে দাবি করেন, তারা ঘোষণা দিয়েছেন। তারা হয়তো আজান দিয়েছেন। কিন্তু তারা ছেলের বাপ না। বঙ্গবন্ধুই হচ্ছেন জাতির পিতা।’

নূর আলী বলেন, ‘আমাদের রিয়েলিটি বুঝতে হবে, সেদিন কার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষ জীবন দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমিও সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সাড়ে সাত কোটি মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমিও সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমি কুমিল্লায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিই। সেদিন আমার কমান্ডার শহীদ হন। এখন আমি বোনাস লাইফ নিয়ে বেঁচে আছি। সুতরাং কার ডাকে? শুধু বঙ্গবন্ধুর ডাকে। কেবল আমিই না, সাড়ে সাত কোটি মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ডাকে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন গোলাপ ফুলের মতো। ফুলকে যেমন মানুষ ভালোবাসে, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ভালো বাসতেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক করার কিছুই নেই।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও ১৫ আগস্ট ভোরবেলায় আমি হলে ছিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আমরা সবাই সাধারণ পরিষদের বিল্ডিংয়ের চার তলায় আলোচনায়, বঙ্গবন্ধু যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আসবেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে শুনি বুলেটের শব্দ। তখন আমরা নিচে বেরিয়ে এলাম। সেখান থেকে নিষেধ করা হলোÑ আপনারা ওদিকে যাবেন না। আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কী করব? আমাদের কোনোভাবেই সামনে যেতে দিল না। তখন ফিরে এলাম। আমাদের একটা নির্দেশ দিল যে, তোমরা যার যার এলাকায় চলে যাবে। আমরা এলাকায় চলে গেলাম। আমি তিন থানার কমান্ডার ছিলাম। ভাবলাম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কোনো ডাক আসবে। কিন্তু সেই ডাক আর কখনো আসেনি। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছু বেইমান লুকিয়ে ছিল। শুনি তারা মোস্তাকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আমাদের সব কিছু ভূলুণ্ঠিত করে দিল।’ তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। আজকে দেশের যে অগ্রগতি সেটা তার কারণে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হয়েছে। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। এটা কোনো সাধারণ হত্যা ছিল না। শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার দীর্ঘায়ু কামনা করি আমরা।’ এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আজকে আমরা ব্যবসা করতে পারছি। আমরা চাকরি দেওয়া তো দূরে থাক, চাকরি করতেও পারতাম কিনা তাও সন্দেহ। অক্সিজেন আমরা বিনাপয়সায় পাই বলে তার মূল্য বুঝি না। বর্তমান প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক অর্থ বোঝাতে হবে। এবং বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।’

advertisement