advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফ্রান্স যেতে গিয়ে স্লোভাকিয়ার জঙ্গলে ‘নিখোঁজ’ বাংলাদেশি

ইসমাইল হোসেন স্বপন,ইতালি
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৪২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৫০
ফরিদ উদ্দিন
advertisement

গন্তব্য ছিল রঙিন দেশ ফ্রান্স। আর সে অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনাও সেরে ছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার যুবক ফরিদ উদ্দিন (৩৫)। প্রথমে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ, এরপর ইউরোপের অন্যকোনো দেশ। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে সোজা ফ্রান্স। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিলেন তিনি। খেলাও দেখতে যান রাশিয়ায়। তারপর সেখান থেকে পাড়ি দেন ইউক্রেনে। কিন্তু ইউক্রেন থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছিলেন না তিনি। পরে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্রান্সে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বনা থাকলে কি আর করার থাকে তখন! সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ফ্রান্সের উদ্দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে স্লোভাকিয়ার জঙ্গলে নিখোঁজ হন ফরিদ।

ফরিদ উদ্দিনের ছোট ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলাউদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে যান তার বড় ভাই ফরিদ।  খেলা শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকমাস রাশিয়ায় থাকেন তিনি। সেখান থেকে ইউক্রেন যান। ইউক্রেনে মাস খানেক অবস্থান করার পর সম্প্রতি ফ্রান্স যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে থাকা দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।  তাদের সঙ্গে ফ্রান্সে যাওয়ার একটি চুক্তিও হয়।  সেই চুক্তি অনুযায়ী দেশে থাকা মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তির কাছে ৭ লাখ টাকা রাখে ফরিদের পরিবার।  কথা ছিল গাড়িতে করে ফরিদকে ফ্রান্স পৌঁছে দেবেন দালালরা।  এর পর জমাকৃত ৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হবে তাদেরকে।  চুক্তির পর ইউক্রেনে দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ফরিদ।

ফরিদের ভাই আরও জানান, সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় তাদের।  এসময় তিনি জানান পরদিন (২৮ আগস্ট) ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন তিনি।  এ কথার পর পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তার। 

গত ২ সেপ্টেম্বর ফরিদ উদ্দিনের এক সঙ্গী (ফ্রান্স যাত্রাপথের) ফোন করে তার ছোট ভাই কাওছার আলীকে জানান, গত বুধবার একজন দালালের সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনসহ তারা ৬ জন ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পায়ে হেটে ফ্রান্স পৌঁছাতে তাদের ৫দিন সময় লাগে। কিন্ত তাদের সঙ্গে খাবার ছিল মাত্র দুদিনের। খাবার শেষ হওয়ার পর তাদেরকে শুকরের মাংস খেতে দেয় দালালরা।  কিন্ত এই খাবার খেতে অপারগতা জানান ফরিদ। তার সঙ্গে থাকা খেজুর খেয়ে আরো একদিন পার করেন তিনি।  দুই দিন পায়ে হেটে তারা পৌঁছান স্লোভাকিয়ার একটি জঙ্গলে। সেখানে পৌঁছানোর পর খেজুর শেষ হয়ে যায় ফরিদের। এর পর শুকরের মাংস খেতে বাধ্য হন তিনি। এই খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।  নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে তার।  প্রচন্ড বমি আর ডায়রিয়া শুরু হলে একেবারেই দুর্বল হয়ে যান তিনি। 

ফরিদের সঙ্গীরা ফোনে তার ভাইকে আরও জানান, ওই জঙ্গলে সেদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে একটি বিকট শব্দ পেয়ে সবার ঘুম ভেঙ্গে যায়।  এসময় তারা ঘুম থেকে উঠে ফরিদকে পাশে দেখতে না পেয়ে জঙ্গলে খুঁজতে থাকেন।  কিন্ত কোথাও ফরিদকে না পেয়ে একপর্যায়ে তাকে ছাড়াই ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা করেন দালালসহ তারা।

এ ঘটনা জানার পর আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি আমার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে স্লোভাকিয়ার ওই জঙ্গলে তাকে ফেলে রেখে অথবা তাকে হত্যা করে দালালরা।  এর পর তারা ফ্রান্সে চলে যায়।’

ফরিদকে উদ্ধারের জন্য স্লোভাকিয়ার সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তিনি।

এদিকে, ফরিদ উদ্দিনের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর থেকে পরিবারে সবাই ভেঙে পড়েছে।  কান্নাকাটি করছেন স্বজনরা। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ফরিদ। তার স্ত্রী সেলিনা সুলতানা বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

advertisement